রাশিয়ার ব্যাপক হামলায় আবারও অচল হয়ে পড়েছে ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামো। রাজধানী কিয়েভসহ দেশজুড়ে শুক্রবার (০৭ নভেম্বর) গভীর রাতে ছোড়া হয় ৪৫০টির বেশি বিস্ফোরকবোঝাই ড্রোন এবং অন্তত ৪৫টি ক্ষেপণাস্ত্র। ভয়াবহ এই হামলায় অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন বহু মানুষ।
ইউক্রেনের সরকারি সূত্র ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো বলছে, এ হামলা ছিল চলমান যুদ্ধের অন্যতম বৃহত্তম বায়ু অভিযান। রাতভর আকাশে বিস্ফোরণ ও গর্জনের শব্দে রাজধানী কিয়েভসহ দেশের ২৫টি অঞ্চলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
বিবিসি জানিয়েছে, দিনিপ্রো শহরের একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে দুজনের মৃত্যু হয় এবং ১২ জন আহত হন। একই রাতে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় জাপোরিঝিয়ায় আরও তিনজনের প্রাণহানি ঘটে।
ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া সিভিরিদেঙ্কো টেলিগ্রামে জানান, রুশ হামলায় খারকিভ, পোলতাভা ও কিয়েভ অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি অবকাঠামো গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরুদ্ধারের কাজ শুরু করেছি, তবে ক্ষয়ক্ষতি ব্যাপক।’
রাতের হামলায় কিছু অঞ্চলে পুরোপুরি অন্ধকার নেমে আসে। বহু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় হাসপাতাল ও জরুরি সেবা প্রতিষ্ঠানগুলো জেনারেটর নির্ভর হয়ে পড়ে।
ইউক্রেনের বিমানবাহিনী শনিবার সকালে এক বিবৃতিতে জানায়, রাশিয়া এক রাতে ৪৫০টিরও বেশি ড্রোন ও ৪৫টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। তাদের দাবি, ৪০৬টি ড্রোন ও নয়টি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা সম্ভব হয়েছে। তবুও যেসব অস্ত্র লক্ষ্যভেদ করেছে, সেগুলোর বেশির ভাগই বেসামরিক এলাকায় আঘাত হেনেছে।
তবে মস্কো এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তাদের হামলার লক্ষ্য ছিল কেবল ইউক্রেনের সামরিক স্থাপনা। তারা পাল্টা অভিযোগ করে বলেছে, শুক্রবার রাতেই ইউক্রেনের সেনারা রুশ সীমান্তে ৭৯টি ড্রোন পাঠিয়েছিল, যা রুশ বাহিনী ভূপাতিত করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, শীত আসার আগে ইউক্রেনের জ্বালানি খাতকে দুর্বল করার কৌশলই রাশিয়ার এই হামলার মূল উদ্দেশ্য। কারণ, বিদ্যুৎ ও তাপ সরবরাহ অচল হলে শীতকালে ইউক্রেনের সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে—এমন আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
নতুন এই হামলার পর আবারও স্পষ্ট হলো, যুদ্ধের প্রায় তিন বছর পরও শান্তি আলোচনার কোনো অগ্রগতি নেই; বরং সংঘাত ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে।
পতাকানিউজ/এনটি

