পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে প্লট বরাদ্দ নিয়ে দায়ের করা দুর্নীতির ছয় মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণ হলে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে। এসব মামলার বেশ কয়েকটি ধারায় যাবজ্জীবনের পাশাপাশি রয়েছে বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) দায়ের করা ছয় মামলায় শেখ হাসিনা, তার সন্তান সজীব ওয়াজেদ জয়, সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, বোন শেখ রেহানা, রেহানার ছেলে রাদওয়ান সিদ্দিক, মেয়ে আজমিনা সিদ্দিকসহ আরও বেশ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। রাজউকের তৎকালীন একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীকেও এ মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগ প্রমাণ হলে সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন
দুদকের বিশেষ পিপি মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘অপরাধজনক বিশ্বাসভঙ্গ, প্রতারণা, তথ্য গোপন ও ঘুষ–সংক্রান্ত ধারাগুলোর মধ্যে কয়েকটিতে সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। পাশাপাশি রয়েছে ৭ বছর, ৩ বছর ও ১ বছরের সাজাও।’
দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারায় সরকারি দায়িত্বে থেকে অপরাধজনক বিশ্বাসভঙ্গের সর্বোচ্চ শাস্তি আজীবন কারাদণ্ড। ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় রয়েছে সাত বছরের কারাদণ্ডের বিধান।
প্লট বরাদ্দের অভিযোগ
২০২২ সালে রাজউক পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে শেখ হাসিনা এবং তার পরিবারের বিভিন্ন সদস্যকে একটি করে ১০ কাঠার প্লট বরাদ্দ দেয়। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, রাজউক এলাকায় বাড়ি বা ফ্ল্যাট থাকার পরও তা গোপন করে ‘নিয়ম বহির্ভূতভাবে’ প্লট বরাদ্দ নেওয়া হয়। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ক্ষমতার অপব্যবহার করে বরাদ্দ প্রক্রিয়ায় প্রভাব খাটানো হয়।
ছয় মামলার প্রত্যেকটিতেই দণ্ডবিধির ১৬১, ১৬৩, ১৬৪, ১৬৫(ক), ২০১, ২১৭, ২১৮, ৪০৯, ৪২০ ও ১০৯ ধারাসহ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা যুক্ত করা হয়েছে।
মামলা, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও অভিযোগপত্র
গত জানুয়ারিতে ছয়টি মামলা করে দুদক। ২৫ মার্চ আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। ২৮ জন আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। আসামিদের মধ্যে রাজউকের সাবেক সদস্য খুরশিদ আলম আত্মসমর্পণ করে কারাগারে আছেন।
তিন মামলার রায় বৃহস্পতিবার
শেখ হাসিনা, জয় ও পুতুলের প্লট বরাদ্দ নিয়ে দায়ের করা তিন মামলার রায় ঘোষণা হবে বৃহস্পতিবার। বিশেষ জজ আদালত–৫ এই তারিখ নির্ধারণ করেছে।
রেহানার মামলার রায় ১ ডিসেম্বর
শেখ রেহানার প্লট বরাদ্দ মামলায় রায় ঘোষণার দিন ধার্য করা হয়েছে ১ ডিসেম্বর। এ মামলাটি বিশেষ জজ আদালত–৪–এ বিচারাধীন।
রাদওয়ান ও আজমিনার মামলার অগ্রগতি
রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ও আজমিনা সিদ্দিকের মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে। ৩০ নভেম্বর ও ১ ডিসেম্বর সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য রয়েছে। দুদকের বিশেষ পিপির মতে, এ দুটি মামলার রায় জানুয়ারিতে হতে পারে।
যে মামলায় যারা আসামি
পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান, প্রকল্প–সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা, গৃহায়ন মন্ত্রণালয়ের সাবেক কয়েকজন সচিব ও কর্মকর্তারাও রয়েছেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রীর তৎকালীন ব্যক্তিগত সচিবও আছেন আসামির তালিকায়।
এর আগে মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ড
এর আগে জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দুই মামলায় শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড এবং আরেকটিতে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। গত ১৭ নভেম্বর এই রায় ঘোষণা করা হয়।
পতাকানিউজ/এআই

