একের পর এক বিতর্কিত বক্তব্য দিয়ে রাজনীতিতে ‘সমালোচিত’ চরিত্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করছেন জামায়াত নেতা শাহজাহান চৌধুরী। প্রশাসনকে নিজের নিয়ন্ত্রণে নেয়ার কথা বলার পর এবার ভাইরাল হলো তার আরেকটি বক্তব্য, যেখানে তিনি নিজেকে চট্টগ্রামের গার্ডিয়ান বলে ঘোষণা দিয়েছেন।
জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সাবেক এমপি শাহজাহান চৌধুরী নিজেকে ‘গার্ডিয়ান অব চিটাগাং’ ঘোষণার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। সেখানে তিনি দাবি করেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস নাকি তাকে ‘এক বছর কাজ করার জন্য চট্টগ্রামের অভিভাবক’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন।
তিনি এমন বক্তব্য দেন গত ১৫ নভেম্বর সাতকানিয়ার কাঞ্চনা ইউনিয়নের ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কর্মী সম্মেলনে। ৩ মিনিট ১৬ সেকেন্ডের বক্তব্যে শাহজাহান চৌধুরী বলেন, ‘আজকে পুরো চট্টগ্রামে এক বছর ধরে কাজ করার জন্য ড. ইউনূস ঘোষণা করেছেন, শাহজাহান চৌধুরী গার্ডিয়ান অব চিটাগাং।’
তিনি আরও দাবি করেন, রাজনীতিতে তিনি কোনো ‘ধান্দাবাজি’ করেননি এবং চট্টগ্রামকে ‘সেকেন্ড সিঙ্গাপুর’ বানানোর স্বপ্ন নিয়ে কাজ করছেন। একই সঙ্গে সাতকানিয়া–লোহাগাড়ার উন্নয়ন না হওয়ায় আক্ষেপও প্রকাশ করেন।
৩ মিনিট ১৬ সেকেন্ডের ভিডিওর বক্তব্যে শাহজাহান চৌধুরী বলেন, ‘আমি ২ বারের এমপি, ৪ বার পার্লামেন্ট নির্বাচন করেছি। ৪২ বছর সাতকানিয়া, লোহাগাড়ার জনসাধারণকে বুকে নিয়ে আমি বারবার আপনাদের কাছে এসেছি। আপনারা আমাকে সম্মানিত করেছেন। ১৯৯১-তে এমপি বানিয়েছেন, ২০০১ সালে নির্বাচিত করেছেন। আজকে বাংলার সাতকানিয়া-লোহাগাড়া নয়, পুরো চট্টগ্রামে এক বছর ধরে কাজ করার জন্য ড. ইউনূস ঘোষণা করেছেন, শাহজাহান চৌধুরী গার্ডিয়ান অব চিটাগাং। চট্টগ্রামের অভিভাবক হচ্ছেন শাহজাহান চৌধুরী।’
শাহজাহান চৌধুরী বলেন, ‘আমি এমপিগিরি রাজনীতির মাধ্যমে কোনো ধান্দাবাজি করিনি। তাই আজকে আপনাদের দুয়ারে এসেছি। আগামী নির্বাচনে আপনাদের সবার কাছে অনুরোধ, আসুন শুধুমাত্র কাঞ্চনা নয়, সাতকানিয়া-লোহাগাড়া নয়, চট্টগ্রামকে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে সেকেন্ড সিঙ্গাপুর করার স্বপ্ন নিয়ে আজকে চট্টগ্রামে রাজনীতি করছি। তাই আমার কাছে কোনো জামায়াতে ইসলামী নয়, কোনো রাজনীতি নয়, জাতি, ধর্ম-বর্ণ নয়, আমি মানুষকে ভালোবাসি। মানুষের মুক্তির জন্য কাজ করেছি। ৫৪ বছর ধরে রাজনীতি করে ৪২ বছর সাতকানিয়া লোহাগাড়ার নির্যাতিত, নিপীড়িত, অসহায়, নিরন্ন মানুষের খেদমত করেছি। আজকে সাতকানিয়া লোহাগাড়ার কী অবস্থা। রাস্তা নেই, ঘাট নেই, ব্রিজ নেই, কালভার্ট নেই।’
নিজেকে চট্টগ্রামের অভিভাবক ঘোষণার বিষয়ে জানতে চাইলে জামায়াত ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগর সেক্রেটারি অধ্যক্ষ নুরুল আমিন পরিষ্কার ভাষায় বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।’
বরং তিনি জানান, জিইসি কনভেনশন হলে শাহজাহান চৌধুরীর বিতর্কিত বক্তব্য ঘিরে দলের পক্ষ থেকে তার কাছে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
শাহজাহান চৌধুরীর দাবিকে আরও স্পষ্টভাবে বাতিল করেছেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দীন। তিনি বলেন, ‘তাকে এ ধরনের কোনো দায়িত্ব দেয়া হয়নি। এমন কিছু হলে অফিস আদেশের মাধ্যমে জানানো হতো। মৌখিকভাবেও আমরা কোনো নির্দেশনা পাইনি।’
এর আগে ২২ নভেম্বর জিইসি কনভেনশন সেন্টারে জামায়াতের নির্বাচনী দায়িত্বশীলদের সমাবেশে শাহজাহান চৌধুরী আরেকটি উত্তপ্ত মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘প্রশাসনে যারা আছে, তাদের অবশ্যই আমাদের আন্ডারে নিয়ে আসতে হবে। আমাদের কথায় উঠবে, আমাদের কথায় বসবে, আমাদের কথায় গ্রেপ্তার করবে, আমাদের কথায় মামলা করবে।’
এই বক্তব্য নিয়েই দলের ভেতরে সমালোচনা শুরু হয় এবং পরে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়।
পতাকানিউজ/আরএস/কেএস

