চট্টগ্রাম আদালতের জেলা কোর্ট ইন্সপেক্টর সোহেল আহম্মদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগের সপ্তাহ পেরুনোর আগেই এক এসআইকে বদলির অবিযোগ উঠেছে। রানা প্রতাপ বণিক নামে ওই এসআই পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি সদর আদালতে কর্মরত ছিলেন। মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর রানা প্রতাপকে সদর আদালত থেকে জেলার ছোট মেরুং পুলিশ ফাঁড়িতে পাঠানো হয়েছে। একই আদেশে ছোট মেরুং ফাঁড়িতে আগে পোস্টিং পাওয়া এসআই মোজাম্মেল হোসেনকে এনে আদালতে যুক্ত করা হয়েছে।
সাক্ষ্যে বাধা দেয়ার অভিযোগ জানানোর মাত্র ৫ দিন পর বদলির ঘটনায় পুলিশ প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। জেলা পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়ে কোনো তদন্ত কমিটি গঠন ছাড়াই এ বদলি আদেশ দেয়া হলো।
২০ নভেম্বর চট্টগ্রাম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ ২য় আদালতে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে এসআই রানা দাবি করেন, চট্টগ্রাম আদালতের জেলা কোর্ট ইন্সপেক্টর সোহেল আহম্মদ দীর্ঘদিন ধরে তার বিরুদ্ধে ‘বিনা কারণে প্রতিহিংসামূলক আচরণ’ করছেন এবং বেশ কয়েকটি মামলায় তাকে সাক্ষ্য দিতে বাধা দিচ্ছেন। এমনকি তার বিরুদ্ধে অন্য কর্মকর্তাদের কাছে ‘নেতিবাচক বার্তা’ পাঠানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
পূর্বনির্ধারিত হাজিরার দিন আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় মামলাটিতে তার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারি ছিল। এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চাইলে বিচারকের নির্দেশে তিনি রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলীর মাধ্যমে লিখিত আবেদন দাখিল করেন। আদালত ২৩ নভেম্বর আবেদনটি খাগড়াছড়ি জেলা পুলিশ সুপারের কাছে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য পাঠায়।
জেলা পুলিশ সূত্রই নিশ্চিত করেছে, অভিযোগের বিষয়ে কোনো অনুসন্ধান শুরু না করেই রানা প্রতাপকে বদলি করা হয়েছে। এতে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কোর্ট ইন্সপেক্টর সোহেল আহম্মদ বলেন, ‘আমি বাধা দিলে তিনি সেখানে গেলেন কীভাবে? তিনি যেহেতু বলেছেন, তিনিই ভালো জানবেন।’ তবে ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব নিয়ে তিনি মন্তব্য করতে চাননি।
এদিকে এসআই রানা লিখিত অভিযোগ ছাড়া অন্য কোনো বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি। তিনি জানান এটি সম্পূর্ণ ডিপার্টমেন্টাল বিষয়।
খাগড়াছড়ি জেলা পুলিশ সুপার আরেফিন জুয়েল অবশ্য পুরো ঘটনাকে নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। তার ভাষায়, ‘বদলি একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া।’
এর আগে সোহেল আহম্মদ ২০২৪ সালের জুনে চট্টগ্রামের আনোয়ারা থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে কাঁচা চামড়াসহ একটি ট্রাক আটকে চাঁদা দাবির অভিযোগে আলোচনায় আসেন। এছাড়াও একই থানায় বিভিন্ন মামলার বাদীদের হয়রানী ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। অনেকগুলো অভিযোগের পরে তাকে সেখান থেকেও সরিয়ে দেয়া হয়েছিল। এর আগে তিনি কুয়াকাটা মহিপুর,মৌলবীবাজার থানায় দায়িত্ব পালন করেন।
পতাকানিউজ/আরএস/কেএস

