এসএসসিতে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত অন্তত অর্ধহাজার শিক্ষার্থী এইচএসসিতে ফেল করায় ফেনীতে নানা সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এসএসসিতে জিপিএ-৫ অর্জনের পর জেলার সেরা বিদ্যাপীঠ ফেনী সরকারি কলেজ ও সরকারি জিয়া মহিলা কলেজে ভর্তির সুযোগ পান অনেকে। কিন্তুু খ্যাতিমান এসব কলেজে পড়াশোনার পরও এইচএসসিতে অকৃতকার্য হওয়ায় জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
গত বছরের ফলাফলের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০২৪ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় জেলায় ১০ হাজার ৯৩৫ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে ৬ হাজার ৭৪১ জন কৃতকার্য হয়। ওই বছর পাসের হার ছিল ৬১ দশমিক ৬৫ এবং জিপিএ-৫ পেয়ে ছিল ৫৩৯ জন।
কিন্তুু এবার ফেনী জেলার ৬টি উপজেলা থেকে এবার ৪২টি কলেজের ১০ হাজার ৩৫৪ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। তাদের মাঝে ৫ হাজার ৪৪ জন কৃতকার্য হয়েছে। জেলায় পাসের হার ৪৮ দশমিক ৭২, জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৪৪ জন। ফলাফলের দিক থেকে অকৃতকার্যের হার বৃদ্ধি পাওয়ায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উদ্বিগ্ন দেখা গেছে।
শিক্ষাবিদ অধ্যাপক তায়বুল হক বলেন, ‘মূলত ২ কারণে এবারের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল নিম্মমুখি হয়েছে। প্রথমত, শিক্ষার্থীরা রাস্তায় আন্দোলন করে একটি সরকারকে উৎখাত করেছে। কিন্তুু ২০২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের পর শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার টেবিলে ফেরানোর উদ্যোগ নেয়া হয়নি।
দ্বিতীয়ত, বিগত সরকারের সময়ে ফলাফল যাচাইয়ের ক্ষেত্রে কিছুটা লিবারেল থাকার নির্দেশনা থাকলেও এবার সেই রকম কোনো নির্দেশনা ছিল না। যার প্রভাব পড়েছে পরীক্ষার ফলাফলের সূচকের উপর। কাজেই যে ফলাফল জনসম্মূখে আসছে; সেটিই পড়ালেখার প্রকৃত চিত্র বলে আমরা মনে করছি।’
এদিকে ফলাফল ঘোষণার পর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক পোস্ট করা হচ্ছে। তারা এসএসসিতে জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের এইচএসসিতে অকৃতকার্য হওয়ার বিষয়টি কিছুতেই মানতে পারছেন না।
আরিফুল ইসলাম নামের এক গণমাধ্যমকর্মী তার ফেসবুকে পোস্ট করেছেন, ‘ফেনীতে সবচেয়ে বেশি খারাপ ফলাফল করেছে ফেনী সরকারি কলেজ। এ কলেজে ফেল করেছে ২৯৭ জন, সরকারি জিয়া মহিলা কলেজে ২৩২ জন। অপরদিকে মহিপাল সরকারি কলেজে ২৬৯ জন আর জয়নাল হাজারী কলেজে ফেল করেছে ৩৬৫ জন।’
তিনি তার পোস্টে উল্লেখ করেন, ‘ফেনী সরকারী কলেজে যারা এইচএসসি পরীক্ষায় ফেল করেছেন তাদের প্রায় এসএসসিতে জিপিএ ছিল ৪ দশমিক ৫০ এর উপরে। বেশির ভাগ শিক্ষার্থী ছিল জিপিএ-৫ প্রাপ্ত। আর যাদের এসএসসিতে জিপিএ ছিল ১ অথবা ২, তারা ভর্তি হয়েছে বিভিন্ন প্রাইভেট কলেজে।’
তিনি একটি প্রাইভেট কলেজের উদ্বৃতি দিয়ে বলেন, ‘ওই কলেজের ৪৬ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে ২১ জন ফেল করছে। অথচ এসএসসির ফলাফলে এরা ছিল একেবারেই দুর্বল। যাদের জিপিএ কম থাকায় সরকারি কলেজে পড়াশোনার সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিল।’
শুধু আরিফুর রহমানই নয়, ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই ফেনীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একেরপর এক স্ট্যাটাস ভাসছে। মেধাবীদের ফেল করার বিষয়ে প্রতিষ্ঠানকেই দুষছেন তারা। কেউ কেউ এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের পথও বাতলিয়ে দিচ্ছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
পতাকানিউজ/এএএম/এএইচ

