অবশেষে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাচ্ছে ফেনী সদর উপজেলার বালিগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ের সেই ৯২ শিক্ষার্থী। বুধবার, ১৫ এপ্রিল ফেনীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এ নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে সংশ্লিষ্ট মহলে তোলপাড় শুরু হয়।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সূত্র জানায়, জেলা প্রশাসন এবং বিদ্যালয়ের সভাপতি ও ফেনী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতানা নাসরিন কান্তার সার্বিক সহযোগিতায় কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সোমবার এ ৯২ জন শিক্ষার্থীর প্রবেশপত্রের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এর আগে, ফেনীর উপজেলার বালিগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় ৯২ জন শিক্ষার্থীর এসএসসি পরীক্ষা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। সম্প্রতি বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দেয়।
স্কুল সূত্রে জানা যায়, বালিগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ে এবার ৯২ জন এসএসসি পরীক্ষার্থী। তাদের দেয়া পরীক্ষার বোর্ড ফি বাবদ ১ লাখ ১৭ হাজার টাকা পরিশোধের জন্য ডিসেম্বর মাসের শেষের দিকে স্কুলের অফিস সহকারী মিহির চন্দ্র শীলকে দায়িত্ব দেয়া হয়। কিন্তু তিনি ওই টাকা ব্যাংকে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠে। পরবর্তীতে ওই টাকা বোর্ডে জমা হয়েছে কিনা তা তদারকি করেননি স্কুল কর্তৃপক্ষ।
স্কুল সংশ্লিষ্টরা জানায়, চলতি মাসের ২১ তারিখ থেকে অনুষ্ঠিতব্য এসএসসি পরীক্ষায় বালিগাঁও উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে ১৪ জন, মানবিকে ১৬ জন ও ব্যবসায়ে শিক্ষায় ২৫ জন এবং ৩৭ জন অনিয়মিত শিক্ষার্থীসহ মোট ৯২ জন অংশ নেয়ার কথা রয়েছে। কয়েকদিন আগেই ফেনীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তাদের পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র হাতে তুলে দেয়। কিন্তু বালিগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রবেশ পত্র না আসার কারণ খুঁজতে গিয়ে বোর্ড ফি পরিশোধ না হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড।
এদিকে বিষয়টি জানার পর গত বৃহস্পতিবার সকালে স্কুলে জরুরি সভায় বসেন শিক্ষকরা। তারা স্কুলের কোচিংয়ের টাকা থেকে ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা প্রধান শিক্ষকের হাতে দিয়ে দ্রুত বোর্ডের সাথে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন।
এ বিষয়ে বালিগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম জানান, বেশ কিছুদিন যাবত অফিস সহকারী মিহিরকে বোর্ড ফি পরিশোধের জমা ভাউচারটি খুঁজে পাচ্ছে না বলে আমাকে জানায়। কিন্তু সে টাকাগুলো জমা দেয়নি; এমনটা আমরা ভাবতে পারিনি। বিষয়টি আমরা নিশ্চিত হওয়ার পর সে তার ব্যবহৃত মোবাইল বন্ধ রাখায় যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। পরবর্তীতে আমি এবং সহকারী প্রধান আনোয়ার বৃহস্পতিবার কুমিল্লা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের সঙ্গে দেখা করি৷ তিনি জরিমানাসহ বোর্ড ফি জমা দিলে প্রবেশপত্রের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেন।
জানতে চাইলে স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও ফেনী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতানা নাসরীন কান্তা বলেন, ‘কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের সঙ্গে যোগাযোগ করে সোমবার ৯২ জন শিক্ষার্থীর প্রবেশপত্রের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এক্ষেত্রে জড়িত কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। বিষয়টি নিয়ে প্রধান শিক্ষককে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে।
পতাকানিউজ/এএএম/আরবি

