আন্তর্জাতিক স্ক্রিনপ্লে ল্যাব ‘ওয়েস্ট মিটস ইস্ট ২০২৬’-এ নির্বাচিত হয়েছে নির্মাতা আশিক মিশুর নির্মিতব্য চলচ্চিত্র ‘জলছবি: এ ড্র অফ হোপ’।
আগামী জানুয়ারিতে আয়োজিত এ ল্যাবে এশিয়ার ১০টি প্রজেক্ট অংশ নেবে। বাংলাদেশের আরও দুটি প্রজেক্টের পাশাপাশি চীন, ভারত, নেপাল, ফিলিপাইন, কাজাখস্তান ও কিরগিস্তান থেকে একটি করে প্রজেক্ট অংশ নিচ্ছে এই স্ক্রিপ্টল্যাবে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের খ্যাতনামা নির্মাতা ও প্রযোজকদের সমন্বয়ে গঠিত জুরি প্যানেল নির্বাচিত করেছেন এ বছরের অংশগ্রহণকারীদের। তাদের মধ্যে ছিলেন নরওয়ের ইনগ্রিড লিল হোগটুন, আজি হফার্ট, বুলগেরিয়ার ইয়ানা লেকারস্কা, বাংলাদেশের আদনান আল রাজীব ও রাশেদ জামান, রাশিয়ার আন্না শালাশিনা এবং জর্জিয়ার জর্জ ওভাশভিলি।
‘জলছবি: এ ড্র অফ হোপ’ সম্পর্কে নির্মাতা আশিক শিশু বলেন, চলচ্চিত্রটি এখনও ডেভেলপমেন্ট পর্যায়ে রয়েছে। প্রায় পাঁচ বছর ধরে স্ক্রিপ্ট ডেভেলপ করছি আমি এবং আমার টিম। বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের পানিতে ভয়াবহ লবণাক্ততা এবং পানির অভাবকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে এই চলচ্চিত্রের প্লট। কিন্তু আমরা আমাদের ফিল্মে আমাদের অসহায়ত্বকে দেখাতে চাইনি, বরং প্রতিকূলতাকে কাটিয়ে এগিয়ে যাবার গল্পই বলার চেষ্টা করছি।
কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা কী তার চলচ্চিত্রের উপাদান কি না এমন প্রশ্নের জবাবে আশিক মিশু বলেন, বাংলাদেশের আনাচে কানাচে মাটি ও মানুষের সাথে কাজ করছি দীর্ঘদিন যাবৎ। একটা খুব ইন্সপায়ারিং ব্যাপার দেখেছি এই মানুষদের ভেতরে, এরা কখনই হারতে জানেন না। এই মানুষদের প্রতিকূলতাকে জয়ের গল্পই আমার চলচ্চিত্রের মূল উপাদান।

আগামী বছর চৈত্র-বৈশাখ মাসে এই চলচ্চিত্রটির চিত্রায়ন শুরু হবে বলে আশা প্রকাশ করেন পরিচালক আশিক মিশু।
আশিক মিশু দীর্ঘদিন বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশনে প্রডিউসার হিসেবে কাজ করেছেন। বর্তমানে তিনি পাঁচফোড়ন প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের প্রডিউসার-ডিরেক্টর। একই প্রতিষ্ঠান থেকেই নির্মিত হবে এ চলচ্চিত্র। আগামী চৈত্র–বৈশাখে শুরু হবে চিত্রায়ণ।
প্রসঙ্গত, ‘ওয়েস্ট মিটস ইস্ট স্ক্রিনপ্লে ল্যাব’ ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের মেন্টরিং ও পিচিং প্ল্যাটফর্ম। এই ফিল্ম হাটে দক্ষিণ এশিয়ার ১০ জন নির্মাতা তাদের সম্ভাব্য সিনেমার প্রজেক্ট নিয়ে হাজির হন চলচ্চিত্র উৎসবে। বৈশ্বিক চলচ্চিত্র শিল্পের প্রযোজক, পরিবেশকসহ অন্যান্য কলাকুশলীদের সঙ্গে নির্মাতাদের আলোচনা হয়। আর কয়েক দিনের যাচাই-বাছাইয়ের পর সেরা তিনটি প্রজেক্টের ওপর মেন্টরশিপ ও অর্থায়নের (ফান্ডিং) সুযোগ দেয়া হয়।
পতাকানিউজ/এআই

