কক্সবাজার শহরের নতুন বাহারছড়া এলাকার ব্যবসায়ী এবং খেলাঘর সংগঠক হারুনুর রশিদকে হত্যার অভিযোগে মৃত্যুর ১ মাস পর আদালতে মামলা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি দুপুরে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কক্সবাজার সদর আদালতে হারুনের ভাই সাইফুদ্দিন খোকন বাদী হয়ে এ মামলা করেন।
মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. আব্দুল মান্নান জানিয়েছেন, আদালত মামলা আমলে নিয়ে ১৫ কার্যদিবসে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি তদন্তকে নিদের্শ দিয়েছেন।
মামলায় অভিযুক্তরা হলেন-হারুনুর রশিদের স্ত্রী আফরিনা আলমাছিন ডলি, ডলির ভাই রুবেল ও অরুন, ডলির ভগ্নিপতি নাহিদ রেজা খান ও ফজল কাদের।
কক্সবাজার শহরের নুতুন বাহারছড়ার মরহুম আবু তাহেরের ছেলে ব্যবসায়ী হারুনুর রশিদ গত ৩ জানুয়ারি রাতে কক্সবাজার সদরের একটি বেসরকারি হাসপাতালের মারা যান। ওই সময় তার হৃদক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে বলে জানানো হয়।
মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেছেন, হারুনুর রশিদের স্ত্রী আফরিনা আলমাছিন ডলি, তার ভাই, ভগ্নিপতি এবং জনৈক ব্যাংক কর্মকর্তার প্ররোচনায় বাদীর ভাইয়ের কাছ থেকে প্রায় অন্যায় ও স্বেচ্ছাচারীভাবে টাকা দাবি করতো। গত ২ জানুয়ারি আফরিনা আলমাছিন ডলি থাইল্যান্ড ভ্রমণে যেতে স্বামীর কাছে ৭০ লাখ টাকা দাবি করেন। হারুন থাইল্যান্ডের পরিবর্তে সৌদি আরব হজ করতে যাওয়ার পরামর্শ দেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে হারুনের ওপর নির্যাতন শুরু করা হয়। রাতে ডলি তার ভাই ও ভগ্নিপতিদের ডেকে এনে হারুনকে জমি ও অর্থ সম্পদ লিখে দিতে চাপ প্রয়োগ করেন এবং সকলে মিলে হারুনের বুকের ওপর বসে হত্যার উদ্দেশ্যে উপর্যুপরি ঘুষি মারে। যার প্রত্যক্ষদর্শী বাড়িতে থাকা কর্মচারী মো. সিফাত হারুনকে রক্ষার চেষ্টা করলে তাকে ধাক্কা দেয়া হয়।
এতে সিফাত দেয়ালে পড়ে মাথা ফেটে যায়। এর একপর্যায়ে হারুনের কাছ থেকে বাড়ি থাকা ১২ লাখ টাকা নিয়ে নেয় এবং ব্যাংকের একাউন্টের একাধিক চেকে স্বাক্ষর আদায় করেন। নির্যাতনের সময় হারুন চিৎকার করায় সাউন্ডবক্সে উচ্চস্বরে গান বাজানো হয়। এসময় বিবস্ত্র হারুন অজ্ঞান হয়ে যায়। সিফাত তার কর্তা হারুনকে একটি লুঙ্গি জোগাড় করে এনে পরিধান করায়। ৩ জানুয়ারি সকালে সিপাত, স্থানীয়দের ডেকে ভাইয়ের খবর দেন। পরে তাকে উদ্ধার করে মুমূর্ষ অবস্থায় কক্সবাজার শহরের ইউনিয়ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, হারুনকে হাসপাতালে ভর্তির খবর জানাজানি হলে ডলি মো, সিফাতকে সকাল ১০ টায় নতুন বাহারছড়ার স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক ডাক্তার মজুমদারের কাছে নিয়ে মাথায় সেলাইয়ের ব্যবস্থা করে এবং ঘটনার বিষয়ে মুখ না খোলার জন্য তাকে চাপপ্রয়োগ ও হুমকি প্রদর্শন করেন। এর মধ্যে রাতে হারুনের মৃত্যু হলে মরদেহ দ্রুত এনে সকালে দাফন করা হয়।
এর মধ্যে সিপাতকে নানাভাবে হুমকি দিলেসে পালিয়ে নিজ বাড়িতে আশ্রয় নেয়। ওখানে সিপাতের বাবাকে হুমকি দেয়া হয়। যার প্রেক্ষিতে গত ৭ ফেব্রুয়ারি কক্সবাজার সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন সিপাতের বাবা নেজাম উদ্দিন। একইসঙ্গে হারুনের মরদেহ গোসলেকারি প্রতিবেশিরা হারুনের শরীরের আঘাতের চিহ্ন থাকার কথা প্রচার করে।
মামলার বাদী সাইফুদ্দিন খোকন জানান, ঘটনার পর থেকে বিকষয়টি জানাজানি হলেও স্বাক্ষী, গোলসকারীদের সঙ্গে আলাপ ও তথ্য সংগ্রহের কারণে মামলা করতে বিলম্ব হয়েছে।
পরিকল্পিত হত্যা দাবি করে তিনি বলেন, ‘ইতিমেধ্যে অভিযুক্তরা হারুনের মৃত্যুর সংবাদ গোপন করে আদায় করা স্বাক্ষর যুক্ত চেক দিয়ে ব্যাংক একাউন্ট থেকে বিপুল অংকের টাকা্ও উত্তোলনের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। এটা তদন্ত করলে বের হয়ে আসবে।’
বিষয়টি নিয়ে সিপাত ও তার বাবা নেজাম উদ্দিনের সঙ্গে আলাপকালে ঘটনার বিস্তারিত স্বীকার করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে হারুনের স্ত্রী আফরিনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমার স্বামী জীবিত থাকতে এমন কোন বিষয় তো বলেননি। এমন অভিযোগ মিথ্যা। মূলত আমাকে, আমার দুই কন্যা ও এক ছেলেকে সম্পদ থেকে বঞ্চিত করতে চান স্বামী ভাই-বোনসহ স্বজন। এর জন্য নানাভাবে হুমকি দেয়া হচ্ছে। বিষয়টি অভিযোগ সহকারে কক্সবাজার সদর থানাকে জানিয়েছি। এ বিষয়ে আদালতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও জানান তিনি।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি তদন্ত হিমেল রায় জানান, আদালতের মামলাটি তিনি শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত হাতে পাননি। পেলে আদেশ মতে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
পতাকানিউজ/এনএ/আরবি

