কক্সবাজার জেলায় একদিনে নারীসহ ৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় এক কলেজ শিক্ষার্থীর মৃত্যু, জবাই করে হত্যা করা হয়েছে এক নারীকে এবং অজ্ঞাত পরিচয়ে ২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার, ২৭ জানুয়ারি পৃথক সমযয়ে কক্সবাজার সদর উপজেলা ও টেকনাফে এসব ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে থানা-পুলিশ।
বুধবার দুপুর পৌনে ২টায় সদরের খুরুশকুল ইউনিয়নের মনুপাড়ার মোটরসাইকেল আরোহী কক্সবাজার সিটি কলেজের এইচএসসি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ রাসিব (১৭) এর মৃত্যু হয়েছে।
ওই শিক্ষার্থী চৌফলদন্ডী বাজার পাড়ার রবিউল আলমের ছেলে।
কক্সবাজার সদর থানার ওসি অপারেশন মো. বাবুল মিয়া জানিয়েছেন, নিজ বাড়ি থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে কক্সবাজারে আসাছিলো এই শিক্ষার্থী। ঘটনাস্থলে এসে একজন মানসিক ভারসাম্যহীন মানুষকে মোটরসাইকেলের ধাক্কা দেয়। এতে ওই মানসিক ভারসাম্যহীন রক্তাক্ত হয়ে আহত হন।ওই পরিস্থিতিতে মোটরসাইকেল থেকে পড়ে গিয়ে জ্ঞান হারান রাসিব।পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে আনলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করে। চিকিৎসকদের মতে, রক্ত দেখেই হৃদক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে তার। মরদেহ এখনও কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে রয়েছে।
এ ঘটনায় আহত পথচারিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
একইদিন দুপুরে কক্সবাজার সদরের চৌফলদন্ডীতে নিজ বাড়ির নলকূপের পাশে জবাই করে হত্যা করা হয়েছে বিবি আমেনা (৪৫) নামের এক নারীকে।
নিহত নারী কক্সবাজার সদরের চৌফলদন্ডী ইউনিয়নের ঘোনার পাড়ার মোহাম্মদ শহিদুলের স্ত্রী।
আমেনার কন্যা জানান, দুপুরে খাবার খেয়ে নলকূপে পানির জন্য গেলে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন তার মাকে। এসময় আমেনার কপালে আঘাত আর গলায় ছুরির আঘাত দেখা গেছে। প্রতিবেশিরা আমেনাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে মরদেহ মর্গে পাঠায়।
নিহতের স্বামী শহিদুল বলেন, ‘আমি বাসায় ছিলাম না। আমার ছেলে মেয়ে মায়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে আমাকে কল দেয়। আমি হাসপাতালে গিয়ে স্ত্রীর মরদেহ দেখতে পায়।’
কক্সবাজার সদর থানার ওসি অপারেশন মো. বাবুল মিয়া জানান, হত্যার প্রাথমিক কারণ জানতে পুলিশ পরিবারের সদস্য সহ বিভিন্ন জনের সাথে আলাপ করছেন।
এছাড়া বিকাল সাড়ে ৩টায় কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়ার বাঁকখালী নদীর প্যারাবন থেকে অনুমানিক ৫০ বছর বয়সের এক অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
কক্সবাজার সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মাহবুবুল আলম জানান, স্থানীয়দের ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এ ব্যক্তির মৃত্যু কয়েকদিন আগে হতে পারে। সোয়েটার আর লুঙ্গি পরিহিত ব্যক্তির মুখ, কান, কাঁকড়ায় খেয়ে ফেলছে। রক্ত বের হচ্ছে। মৃত্যুর কারণ জানতে মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়না তদন্তের প্রতিবেদনে বিস্তারিত জানা যাব। পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে।
এদিকে বুধবার দুপুরে টেকনাফের স্থলবন্দরের পশ্চিমের পাহাড়ে ঝুলন্ত অবস্থায় আরও এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন টেকনাফ মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম।
ওসি জানান, অজ্ঞাত পরিচয়ে পাওয়া ঝুলন্ত মরদেহটি অনুমানিক ৩৫ বছর বয়সী যুবকের হতে পারে। তবে শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। প্রাথমিক অবস্থায় এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
পতাকানিউজ/এনএ/আরবি

