কক্সবাজারের কলাতলীতে এলপিজি গ্যাস পাম্পের আগুনের ঘটনায় পাম্প মালিক নুরুল আলম প্রকাশ এন আলমের বিরুদ্ধে মামলা করেছে বিস্ফোরণ অধিদপ্তর।
রবিবা্র, ১ মার্চ রাতে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় বিস্ফোরণ অধিদপ্তরের চট্টগ্রামের সহকারী বিস্ফোরক পরিদর্শক এসএম সাখাওয়াত হোসেন বাদী হয়ে এ মামলা করেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, আগুনের ঘটনার পর পরিদর্শন করে যাচাই-বাছাই করে নিশ্চিত হওয়া গেছে গ্যাস পাম্প করার জন্য জেলা প্রশাসনের অনাপত্তিপত্র, পরিবেশ অধিদপ্তরের সনদ, ফায়ার সর্ভিসের অনুমতিপত্র এবং বিস্ফোরণ অধিদপ্তরের লাইন্সেন নেননি মালিক এন আলম। যা বিস্ফোরণ আইন অপরাধ।
এজাহারে একজন নিহতসহ ১০ জন আহত হওয়ার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি মো. ছমি উদ্দিন জানান, বিস্ফোরক আইন-১৮৮৪ এর বিধি ৫ এর ৩(ক), ৩ (খ) এবং তরলীকৃত, পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) বিধিমালা, ২০০৪ এর বিধি ১১১ ধারা বাজার তৎসহ পেনাল কোড-১৮৬০ এর ৩০৪ ধারায় মামলাটি রুজু হয়েছে। মামলায় একমাত্র আসামি করা হয়েছে গ্যাস পাম্পের মালিক রামু উপজেলার নুর আহমদ সিকদারের ছেলে নুরুল আলম প্রকাশ এন আলমকে। আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
প্রসঙ্গত, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে পাম্পের ট্যাংক থেকে গ্যাস নির্গত (লিকেজ) হয়ে আগুন ধরে যায়। পাম্পের কর্মচারীরা বালু ও পানি ছিটিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। পরে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং আবার আগুন ধরে যায়। বিস্ফোরণের পর আগুন ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের ঘরবাড়িসহ নানা প্রতিষ্ঠানে। আগুনে ৩০টির মতো গাড়ি, ৪ টি বাড়িসহ নানা অবকাঠামো পুড়ে ছাই হয়ে যায়। আগুনে দগ্ধসহ আহত হন ১৫ জন। এর মধ্যে ৬ জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিট ভর্তি করা হয়।
আগুনের ঘটনায় ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে জেলা প্রশাসন।
এদিকে রবিবার দুপুর আড়াইটায় আগুনে দ্বগ্ধ আবু তাহের ৩ দিন পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ণ এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। আবু তাহের (৪২) কক্সবাজার শহরের কলাতলী আদর্শ গ্রামের আব্দুর রহিমের ছেলে। তিনি পেশায় অটোরিকশা চালক।
পতাকানিউজ/এনএ/আরবি

