কবর থেকে মানুষের কঙ্কাল তুলে প্রক্রিয়াজাতের পর বিক্রির অভিযোগে গ্রেপ্তার ৪ জনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আসামিরা হলেন- কাজী জহরুল ইসলাম ওরফে সৌমিক, মো. আবুল কালাম, আসাদুল মুন্সী ওরফে জসিম ওরফে এরশাদ এবং ফয়সাল আহম্মেদ। এদের মধ্যে সৌমিক উত্তরার সাপ্পোরো ডেন্টাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী। আর ফয়সাল একই কলেজ থেকে পড়াশোনা শেষ করে ইন্টার্নের জন্য অপেক্ষমান।
আদালতের তেজগাঁও থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা এসআই আরিফ রেজা চারজনকে কারাগারে পাঠানোর তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আজ দুপুরে ৪ জনকে আদালতে হাজির করে তেজগাঁও থানা পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তেজগাঁওয়ের এসআই শাহাদাত হোসেন নাফিস আসামিদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেককে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এর আগে সোমবার, ৯ মার্চ ঢাকার তেজগাঁও ও উত্তরা থেকে ৪৭টি খুলি ও মানবদেহের বিভিন্ন অঙ্গের হাড়সহ এ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় তেজগাঁও থানার এসআই মিরাজ উদ্দিন আজ মামলা করেন।
মামলার বিবরণে বলা হয়, গোপন সংবাদে পুলিশ জানতে পারে, তেজগাঁওয়ের মনিপুরি পাড়ার ১নম্বর গেইটের সামনে কবরস্থান থেকে কঙ্কাল সংগ্রহ করে বিক্রির উদ্দেশ্যে এ ব্যক্তি অবস্থান করছে। এ সংবাদে রবিবার রাত পৌনে ২টায় সেখানে অভিযান চালিয়ে কাজী জহুরুল ইসলাম ওরফে সৌমিককে আটক করা হয়। এসময় তার কাছ থেকে একটি কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়। পরে তার দেয়া তথ্যে সোমবার সকাল ৭টায় তেজগাঁও কলেজের সামনে থেকে আবুল কালাম ও আসাদুল মুন্সীকে আটক করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে দুটি কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়।
পরবর্তীতে তাদের দেয়া তথ্যে সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টায় উত্তরা পশ্চিম থানার সাপ্পোরো ডেন্টাল কলেজ অ্যান্ড হসপিটালের হোস্টেলে অভিযান চালিয়ে ফয়সালকে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে ৪৪টি কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা বলেন, তারা গাজীপুর, শেরপুর ও ময়মনসিংহ দেশের বিভিন্ন কবরস্থান থেকে কঙ্কাল চুরি করে বিভিন্ন জনের কাছে চড়া দামে বিক্রি করত।
পতাকানিউজ/এএ/আরবি

