মানবজীবন নানারকম সমস্যা ও সংকটে পরিপূর্ণ। ব্যক্তিগত জীবনে হোক বা সামাজিক ক্ষেত্রে বিপদ-আপদ আসা স্বাভাবিক বিষয়। ইসলাম এমন এক পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা, যা প্রতিটি কঠিন সময়েই মানুষকে আল্লাহর শরণাপন্ন হতে শিক্ষা দেয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজেও জীবনের কঠিন মুহূর্তগুলোতে বিশেষ দোয়া ও জিকির পাঠ করে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করতেন।
যেভাবে কঠিন বিপদ থেকে মুক্তি পাবেন:
আরবি: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ الْعَظِيمُ الْحَلِيمُ، لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ، لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ رَبُّ السَّمَاوَاتِ وَرَبُّ الْأَرْضِ وَرَبُّ الْعَرْشِ الْكَرِيمِ
উচ্চারণ: ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহুল আজিমুল হালিম, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু রব্বুল আরশিল আজিম, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু রব্বুস সামাওয়াতি ওয়া রব্বুল আরদি ওয়া রব্বুল আরশিল কারিম।’
অর্থ: ‘মহান ও সহনশীল আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই; মহান আরশের মালিক আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই; নভোমণ্ডল, ভূমণ্ডল ও মহিমান্বিত আরশের প্রভু আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই।’ (সহিহ বুখারি: ৬৩৪৬)
হাদিসে এ দোয়াটির বিশেষ মর্যাদা ও উপকারিতা উল্লেখ করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) যখনই কোনো বিপদ বা দুঃসময়ের মুখোমুখি হতেন, তখন এই দোয়াটিই পাঠ করে আল্লাহর সাহায্য চাইতেন। এ দোয়ার বরকতে মুমিনের হৃদয়ে প্রশান্তি নেমে আসে, আল্লাহ তাআলা তার কষ্ট ও বিপদ দূর করে নিরাপত্তা দান করেন। নিয়মিত এই দোয়া পাঠ করলে আল্লাহর রহমত ও সুরক্ষা লাভ হয় বলে আলেমগণ বর্ণনা করেছেন।
কঠিন বিপদে নবীজি (স.) আরেকটি দোয়া পড়তেন-
আরবি: يَا حَيُّ يَا قَيُّومُ بِرَحْمَتِكَ أَسْتَغِيثُ
উচ্চারণ: ‘ইয়া হাইয়্যু ইয়া কাইয়্যুমু বিরাহমাতিকা আসতাগিছ।’
অর্থ: ‘হে চিরঞ্জীব! হে বিশ্ব চরাচরে ধারক! আমি তোমার রহমতের আশ্রয় প্রার্থনা করছি।’ আনাস (রা.) বলেন, ‘যখন রাসুলুল্লাহ (স.)-এর ওপর কোনো কাজ কঠিন হয়ে দেখা দিত, তখন তিনি দোয়াটি পড়তেন। (তিরমিজি, মেশকাত: ২৪৫৪)
এছাড়াও যেকোনো কঠিন সময়ে দোয়া ইউনুস বেশ কার্যকর একটি দোয়া। দোয়া ইউনুস হলো–
আরবি: لَّاۤ اِلٰهَ اِلَّاۤ اَنۡتَ سُبۡحٰنَکَ اِنِّیۡ کُنۡتُ مِنَ الظّٰلِمِیۡنَ
উচ্চারণ: ‘লাইলা-হা ইল্লা আনতা সুবহা-নাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ্জালিমিন।’
অর্থ: ‘হে আল্লাহ! তুমি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তুমি মহাপবিত্র। নিশ্চয়ই আমি সীমা লঙ্ঘনকারীদের অন্তর্ভুক্ত।’ (সুরা আম্বিয়া: ৮৭) দোয়া ইউনুস সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন, মাছের পেটে ইউনুস (আ.) এ দোয়া পড়ে আল্লাহকে ডেকে ছিলেন এবং মুক্তি পেয়েছিলেন। যদি কোনো মুসলিম বিপদে পড়ে এ দোয়া পাঠ করে, আল্লাহ তা কবুল করবেন।’ (আহমদ, তিরমিজি, মেশকাত: ২২৯২)
জীবনের সব ক্ষেত্রেই আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রাখা এবং কেবল তাঁর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করা একজন মুমিনের ঈমানের অংশ। বিপদ বা সংকটে হতাশ না হয়ে এসব দোয়া নিয়মিত পাঠ করার অভ্যাস গড়ে তোলা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে বলেন, ‘তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব।’ (সুরা গাফির: ৬০)
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সব ধরনের বিপদ-আপদ থেকে রক্ষা করুন এবং কঠিন সময়ে এসব দোয়ার মাধ্যমে তাঁর কাছে সাহায্য চাওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।
পতাকানিউজ/এনএফএম

