মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ বক্তব্য দেওয়ার অনুমতি না পেয়ে সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী বলেন, ‘বলতে চাচ্ছিলাম যে আমাকে ফাঁসি দিয়ে দেন।’ আজ বৃহস্পতিবার মামলার শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনালের এজলাস থেকে হাজতখানায় নেওয়ার সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বৃহস্পতিবার লতিফ সিদ্দিকীকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। পরে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ তাঁকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
শুনানির সময় লতিফ সিদ্দিকী আদালতে বক্তব্য দিতে চান বলে তাঁর আইনজীবী আবেদন করেন। তবে ট্রাইব্যুনাল সেই আবেদন গ্রহণ করেননি। এরপর কাঠগড়ায় থাকা মাইক্রোফোনে লতিফ সিদ্দিকী বলেন, ‘মহামান্য আদালত, আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’
তিনি কয়েকবার একই কথা বললে ট্রাইব্যুনাল বলেন, ‘কে কথা বলছে? তাঁকে কথা বলার জন্য কে অ্যালাউ করেছে? আজকের মতো এখানেই স্টপ।’
জবাবে লতিফ সিদ্দিকী বলেন, ‘হায়রে হায় হায়। এই যদি হয় আদালত, আমি কোথায় যাই?’
এরপর দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা তাঁর কাছ থেকে মাইক্রোফোন সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে ট্রাইব্যুনালের এজলাসেই পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে তাঁর উচ্চবাচ্য হয়।
শুনানি শেষে তাঁকে ট্রাইব্যুনাল-২-এর কাঠগড়া থেকে হাজতখানায় নেওয়ার সময় এক সাংবাদিক জানতে চান, ট্রাইব্যুনালে তিনি কী বলতে চেয়েছিলেন। জবাবে লতিফ সিদ্দিকী বলেন, ‘বলতে চাচ্ছিলাম যে আমাকে ফাঁসি দিয়ে দেন।’
‘অপরাধ না করেও ফাঁসি হলে সাদরে গ্রহণ করব’
লতিফ সিদ্দিকীর শুনানির সময় ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন তাঁর ছোট ভাই ও কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী। পরে ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

লতিফ সিদ্দিকী নিজেকে ফাঁসি দিতে বলেছেন-এ বিষয়ে জানতে চাইলে কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘মানুষ বাঁচে ক দিন? উনার (লতিফ সিদ্দিকী) ৮৭ বছর হয়ে গেছে। আমার ৮০ বছর। এখন অপরাধটা লতিফ সিদ্দিকী করেননি। সে জন্য যদি তাঁর ফাঁসি হয়, সেটা আমরা সাদরে গ্রহণ করব। কারণ, আল্লাহ-তাআলা তাঁকে তখন মুক্তি দেবেন। আল্লাহ নিজেই বলেছেন।’
শাপলা চত্বরের ঘটনায় লতিফ সিদ্দিকী সম্পূর্ণ নির্দোষ বলে দাবি করেন কাদের সিদ্দিকী। তাঁর ভাষায়, ‘এটা একেবারে অন্যায়, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’ তিনি জানান, এ মামলায় তাঁরা আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন।
ট্রাইব্যুনালে লতিফ সিদ্দিকীকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ না দেওয়ার প্রসঙ্গেও কথা বলেন কাদের সিদ্দিকী। তিনি বলেন, ‘প্রত্যেক অভিযুক্ত কথা বলতে পারেন। গত রাতে লতিফ সিদ্দিকীকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে তিনি সুন্দর ব্যবহার দেখেছেন। কিন্তু ট্রাইব্যুনালে ঠিক উল্টো, একেবারে অসুন্দর ব্যবহার হয়েছে। সম্মানিত ব্যক্তিকে সম্মান দেওয়া উচিত।’
লতিফ সিদ্দিকীর হাতে অতীতেও বহুবার হাতকড়া পড়েছে উল্লেখ করে কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘হ্যান্ডকাফ নিয়ে কোনো ব্যাপার নেই। এটা সরকার বুঝবে।’
-পতাকানিউজ

