চাকরি না পেয়ে অনেকেই হতাশায় ডুবে যান। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ার তরুণ নিক গ্রিনাওয়াল্ট বেছে নিয়েছেন একেবারেই ভিন্ন পথ -যা এখন রীতিমতো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে। নিজের বাসার শৌচাগারের কমোডকে বিজ্ঞাপনের জায়গা হিসেবে ভাড়া দিয়ে তিনি গড়ে তুলেছেন এক অপ্রচলিত ব্যবসা, আর তাতেই আয় করছেন লক্ষাধিক ডলার!
শুনতে অবিশ্বাস্য লাগলেও, পুরো বিষয়টি শুরু হয়েছিল একেবারে মজার ছলে। নিক নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিও পোস্ট করে লিখেছিলেন, ‘আমার শৌচাগার থেকে ১০ লাখ ডলার আয়ের চেষ্টা করছি।’ তখন হয়তো তিনি নিজেও ভাবেননি, এই ‘মজার আইডিয়া’ এক সময় বাস্তব ব্যবসায় পরিণত হবে।
কিন্তু সেটাই হয়েছে। ধীরে ধীরে তার এই অদ্ভুত উদ্যোগ নজর কাড়তে শুরু করে বড় বড় ব্র্যান্ডের। পরিচিত ক্লিনিং ও হাইজিন পণ্য কোম্পানি ক্লোরক্স, পাইন-সল এবং মিরালাক্স। -এমনকি গ্রুমিং ব্র্যান্ড ডক্টর স্কোয়াচ পর্যন্ত তার কমোডে বিজ্ঞাপনের জায়গা কিনে নেয়। ফলে একটি সাধারণ শৌচাগার মুহূর্তেই হয়ে ওঠে ‘হাই-ভ্যালু অ্যাড স্পেস’!
এখানেই শেষ নয়। ক্রিপ্টো পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম মুনপে এই অভিনব ক্যাম্পেইনে যুক্ত হয়ে দাবি করেছে, খুব অল্প খরচে তারা পেয়েছে চমকপ্রদ ফলাফল। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বার্ষিক বিপণন বাজেটের মাত্র ০.০৫ শতাংশ ব্যয় করেই তারা প্রায় ১০ লাখ ভিউ, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অ্যাপ ডাউনলোড এবং হাজারের বেশি নতুন অনুসারী অর্জন করেছে।
নিকের তৈরি ভিডিওগুলোও সামাজিকমাধ্যমে রীতিমতো ভাইরাল। তার একটি ভিডিও প্রায় চার কোটি বার এবং আরেকটি এক কোটিরও বেশি বার দেখা হয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে এই উদ্যোগ এখন আর কেবল ব্যক্তিগত মজার বিষয় নয়-বরং ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের এক নতুন আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
সামাজিকমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে চলছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। কেউ বলছেন, এটি সৃজনশীলতার অসাধারণ উদাহরণ-যেখানে সাধারণ জিনিসকে অসাধারণভাবে কাজে লাগানো হয়েছে। আবার কেউ এটিকে দেখছেন আধুনিক মার্কেটিংয়ের ‘অপ্রচলিত কিন্তু কার্যকর’ কৌশল হিসেবে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের আউট-অফ-বক্স চিন্তা ভবিষ্যতের বিজ্ঞাপন জগতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। প্রচলিত বিলবোর্ড, টিভি বা ডিজিটাল ব্যানারের বাইরে গিয়ে মানুষ এখন এমন কিছু খুঁজছে, যা চোখে পড়বে, মনে থাকবে এবং আলোচনার জন্ম দেবে-নিকের এই উদ্যোগ যেন তারই এক বাস্তব উদাহরণ।
সব মিলিয়ে, চাকরি না পেয়ে হতাশ না হয়ে এক টুকরো ‘অদ্ভুত চিন্তা’ই বদলে দিয়েছে এক তরুণের জীবন। আর সেই সঙ্গে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে-আইডিয়া যদি ইউনিক হয়, তবে সুযোগের দরজা খুলে যেতে পারে যেকোনো জায়গা থেকেই… এমনকি একটি কমোড থেকেও!
-তথ্য সূত্র : এনডিটিবি
-পতাকানিউজ

