কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় পাকিস্তান ও আফগানিস্তান তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রবিবার (১০ অক্টোবর) ভোরে এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানিয়েছে। শনিবার (৯ অক্টোবর) কাতারের রাজধানী দোহাতে দুই দেশের প্রতিনিধিরা বৈঠকে বসার পরই এই সিদ্ধান্ত আসে।
২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালেবান ক্ষমতা দখলের পর গত দুই সপ্তাহে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে এটাই ছিল সবচেয়ে বড় ও সরাসরি সংঘর্ষ। এই সংঘাতে কয়েকশ মানুষ নিহত ও কয়েক হাজার মানুষ আহত হয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
দুই দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী এই বৈঠকে নেতৃত্ব দেন। আফগানিস্তানের পক্ষে ছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোল্লা মোহাম্মদ ইয়াকুব এবং পাকিস্তানের পক্ষে ছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ।
পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, আফগানিস্তান তাদের ২ হাজার ৬০০ কিলোমিটার সীমান্তে সশস্ত্র গোষ্ঠীদের মদদ দিচ্ছে। বিশেষত, তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) সন্ত্রাসীদের মদদ দেওয়ার অভিযোগ করে আসছে ইসলামাবাদ। অন্যদিকে, আফগানিস্তান শুরু থেকেই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
দীর্ঘদিনের এই উত্তেজনার মধ্যে দুই সপ্তাহ আগে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে বিমান হামলা চালায় পাকিস্তান। এর প্রতিশোধ নিতে আফগান সেনারা সীমান্তে পাক সেনাদের ওপর হামলা চালালে এটি বড় সংঘর্ষের রূপ নেয়। পরিস্থিতি আরও জটিল হয় গত শুক্রবার (৮ অক্টোবর), যখন আফগান সীমান্তবর্তী পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়ায় টিটিপি সন্ত্রাসীরা আত্মঘাতী বোমা হামলা চালিয়ে সাত সেনাকে হত্যা করে।
সংঘর্ষের তীব্রতা কমাতে গত সপ্তাহে দুই দেশ ৪৮ ঘণ্টার একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছিল। তবে এর মেয়াদ শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় পাকিস্তান বিমান হামলা চালায়। যদিও এর আগে তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির কথা জানিয়েছিলেন।
বর্তমান যুদ্ধবিরতি যেন কার্যকর থাকে, তা নিশ্চিত করতে ফলোআপ বৈঠকেরও ঘোষণা দিয়েছে কাতার।
সূত্র: রয়টার্স
পতাকানিউজ/এনটি

