পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় কাফনের কাপড় পরে ঝটিকা মিছিল করেছে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। রবিবার, ৯ নভেম্বর ভোরে উপজেলার প্রধান সড়কে এ মিছিল বের হয়। এর কয়েক ঘণ্টা পরই একই উপজেলায় ককটেল বিস্ফোরণ ও লুটপাটের ঘটনায় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ৩৭ নেতার নামে মামলা হয়। পুলিশ ইতোমধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
রবিবার সকাল ৬টার দিকে মিছিলটি উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের সামনে থেকে শুরু হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে গিয়ে শেষ করে। এ সময় নেতাকর্মীরা স্লোগান দিতে থাকে, মুজিব তোমার স্মরণে, ভয় করিনা মরণে, শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে। এতে উপজেলা সরকারি আবদুর রশিদ তালুকদার কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি জায়েদ প্যাদার নেতৃত্বে ২০ থেকে ২৫ জন অংশ নেন। মিছিলকারীদের শরীরে কাফনের কাপড় ও মাথায় বাঁধা ছিল সাদা কাপড়।
মিছিল শেষে জায়েদ প্যাদা নিজের ফেসবুক আইডিতে ছবি ও ভিডিও পোস্ট করলে মুহূর্তের মধ্যেই তা ভাইরাল হয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও কাউকে পায়নি।
এদিকে, গত ১ নভেম্বর রাতে তরমুজ চাষকে কেন্দ্র করে ককটেল বিস্ফোরণ, লুটপাট ও চাঁদা দাবির অভিযোগে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, শ্রমিক লীগ ও ছাত্রলীগের ৩৭ নেতার নামে মামলা হয়েছে। এতে আরও ৭০ থেকে ৮০ জন অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।
চরহাদির ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. কালু মৃধা বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর রাতে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল মাহমুদ লিটনকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ১ নভেম্বর রাতে তরমুজ চাষের জমি দখলকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ভুক্তভোগীদের ঘরে হামলা চালিয়ে লুটপাট ও ভাঙচুর করে এবং দশ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। এসময় ৮ থেকে ১০টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।
রবিবার সকালে মামলার ১৭ নম্বর আসামি, দশমিনা সদরের পূজাখোলা গ্রামের সাহাবুদ্দিনের ছেলে মো. পাভেলকে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
দশমিনা থানার ওসি মোহাম্মদ আবদুল আলীম বলেন, ‘রবিবার সকালে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের মিছিলের খবর পেয়ে পুলিশ পাঠানো হলেও কাউকে পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, তরমুজ চাষের জমি দখল ও চাঁদা দাবির ঘটনার মামলায় পাভেল নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’

এদিকে, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের, সম্মিলিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. আনিসুল ইসলাম সোহেলের অর্থায়নে এবং সমন্বয়ে রবিবার সকালে কলাতলী এলাকায় একটি ঝটিকা মিছিল বের করা হয়েছে। পর্যটকদের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ছাত্রলীগ, যুবলীগের ব্যানারে আয়োজিত মিছিলটিতে ২০-২৫ জন অংশগ্রহণ করে। মিছিলটির পর থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নানাভাবে তৎপর হয়ে উঠেছে।
একাধিক সূত্র জানিয়েছে, টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের উত্তর শীলখালী এলাকার মো. ছৈয়দুল ইসলামের ছেলে মো. আনিসুল ইসলাম সোহেল (৩০)। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় অবস্থান করেছিলেন এবং সম্মিলিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন। জুলাই আন্দোলনে রাজধানী ঢাকায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দমনে তার নেতৃত্বে সংগঠিত হয়েছে একাধিক হামলার ঘটনা। যেখানে হতাহতের ঘটনাও ঘটে। ৫ আগস্ট পরবর্তী রাজধানী ঢাকায় দায়ের করা একাধিক হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি তিনি। বর্তমানে কক্সবাজারে পর্যটন জোন কলাতলীতে অবস্থান করছেন আনিসুল ইসলাম।
একটি সূত্র বলছে, মো. আনিসুল ইসলাম সোহেল কলাতলীর সৈকত পাড়ায় অবস্থান করে মিছিলসহ নানা তৎপরতা চেষ্টা করে আসছে। রবিবার মিছিলে অংশ নেয়ার জন্য গাড়িভাড়াসহ নানাভাবে অর্থ বিনিয়োগ করেন মো. আনিসুল ইসলাম সোহেল। এমনটি মিছিলে অংশ নেয়া অনেকেই মিছিল শেষে সৈকত পাড়ায় গিয়ে তার সাথে সাক্ষাৎ করে টাকা নিতে দেখেছেন স্থানীয় লোকজন।
কক্সবাজার সদর থানার ওসি মোহাম্মদ ইলিয়াস খান জানান, সকালে হঠাৎ করে একটি ঝটিকা মিছিল বের করা হয়েছিল। এতে অংশ নেয়া অনেকেই শনাক্ত হয়েছে। অংশ নেয়া এবং আয়োজনকারীদের ধরতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
পতাকানিউজ/এএইচএস/এনএ/এমওয়াই

