গত দুদিনের কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে মৌলভীবাজারে পল্লী বিদ্যুৎতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় গাছ ও বাঁশ পড়ে ৪১টি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে পড়েছে। এতে ৫৩১ জায়গায় তার ছিড়ে গেছে। ফলে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এ জেলার বেশিরভাগ গ্রাহক। ঝড়ের একদিন পরেও এখনও জেলায় ৩৫ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎহীন।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ ও ২৮ এপ্রিল জেলায় কয়েকদফা কালবৈশাখী ঝড় হয়। এতে সদর উপজেলা, কমলগঞ্জ, রাজনগর, কুলাউড়া, শ্রীমঙ্গলসহ জেলার সাতটি উপজেলায় বিদ্যুৎসঞ্চালন ব্যবস্থার ব্যাপক ক্ষতি হয়। ঝড়ে জেলার ৯ হাজার ৬২২ কিলোমিটার বিদ্যুৎ লাইনে ৪১ টি খুঁটি ভেঙে ও ৫৯টি খুঁটি হেলে পড়ে। এছাড়া ৫৩১ স্থানে তার ছিড়ে পড়ে। ৪৯ টি ট্রান্সফরমার নষ্ট হয়ে গেছে।
এদিকে দ্রুত লাইন মেরামত করার চেষ্টা চলছে। তবে জনবল সংকট ও কয়েকঘণ্টার ব্যবধানে কয়েকবার ঝড় হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতি বেশি হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
সরেজমিন কমলগঞ্জ, রাজনগরসহ কয়েকটি এলকা ঘুরে দেখা যায়, কালবৈশাখী ঝড়ে শতশত গাছ ভেঙে বিদ্যুৎ লাইনের ওপর পড়ে আছে। কমলগঞ্জের সদর ইউনিয়নের কয়েকটি এলাকা টানা ৪ দিন ধরে বিদ্যুতহীন। মৌলভীবাজার সদর উপজেলায় বিভিন্ন স্থানে লাইন মেরামতের কাজ চলছে।
মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী সুজিত কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘গত ২৭ ও ২৮ তারিখের কালবৈশাখী ঝড়ে বিদ্যুতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যুৎ লাইনের মেরামতের কাজ চলছে। বৈরী আবহাওয়া থাকায় কাজে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে।’

এদিকে কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল সড়কের লাউয়াছড়া এলাকায় কয়েকটি স্থানে গাছ ভেঙে মঙ্গলবার টানা ৮ ঘণ্টা সড়ক যোগাযোগ বন্ধ ছিল। টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে কমলগঞ্জে ধলাই নদীসহ সবগুলো পাহাড়ি ছড়ার পানি বেড়েছে।
মৌলভীবাজার পানি উন্নয়নে বোর্ড জানায়, কমলগঞ্জে ধলাই নদীতে ও মৌলভীবাজারে মনু নদে পানি অস্বাভাবিকভাবে বাড়লেও এখনও বিপদসীমা অতিক্রম করেনি। নদীর দিকে সার্বক্ষনিক নজরদারি করা হচ্ছে।
পতাকানিউজ/এমআরআর/আরবি

