জার্মান অভিনেতা ও আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রের অনবদ্য কিংবদন্তি উডো কিয়ার আর নেই। গত রোববার ক্যালিফোর্নিয়ার একটি হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন এই অভিনেতা। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিল ৮১ বছর। উডো কিয়ারের মৃত্যু সংবাদ নিশ্চিত করেছিলেন তার দীর্ঘদিনের সাথী ও শিল্পী ডেলবার্ট ম্যাকব্রাইড। পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে দর্শকদের ভিন্নধর্মী অভিনয়শিল্পী দিয়ে মুগ্ধ করেছিলেন এই অভিনেতা। তিনি ছিলেন রহস্যময় এক প্রতিমূর্তি।
জার্মান এই অভিনেতা তাঁর বিস্তৃত কর্মজীবনে ২০০টিরও বেশি চলচ্চিত্র এবং টেলিভিশন প্রযোজনায় অভিনয় করেছেন। গুণী এই শিল্পী আন্তর্জাতিক খ্যাতির অধিকারী ছিলেন। তিনি ইউরোপীয় আর্টহাউজ সিনেমা ও হলিউড ব্লকবাস্টার উভয় ক্ষেত্রেই কাজ করেছেন।
জানা গেছে উডো কিয়ার আন্তর্জাতিক খ্যাতি ও জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌছেছেন ১৯৩-৪ সালে পল মরিসি ও অ্যান্ডি ওয়ারহল এর বিতর্কিত কিন্তু সাড়া জাগানো ছবি ‘ফ্লেশ ফর ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইন’ ও ‘ব্লাড ফর ড্রাকুলা’ তে অভিনয়ের মাধ্যমে। পর্দায় বিভিন্নরূপে উপস্থিতি ছিল তাঁর। কখনো ছিল অস্বস্তিকর, কখনো বা কৌতুকপূর্ণ, কিংবা কখনো ছিল অদ্ভুত চৌম্বকীয় আকর্ষণে ভরা চরিত্র। উল্লেখ্য ছবিগুলোই তাকে অনবদ্য এক ব্যক্তিত্বে পরিণত করে, যা থেকে দর্শকেরা চোখ ফেরাতে পারতেন না।
সত্তর ও আশির দশকে সবচেয়ে চেনা মুখ হয়ে উঠেন উডো কিয়ার। তিনি জার্মান অট্যুর রেইনার ভার্নার ফাসবিল্ডারের সাথে ‘দ্যা স্টেশনমাস্টার’স ওয়াইফ’, ‘দ্যা থার্ড জেনারেশন’, এবং ‘লিলি মার্লিন’ এর মতো কালজয়ী কাজগুলোতে যুক্ত হন। কিয়ারের অভিনয়ের বিশেষত্ব ছিল তিনি সিরিয়াসনেস বা গভীরতাকে অদ্ভুত ব্যঙ্গাত্মকতার দারুণ এক মেলবন্ধন ঘটাতে পারতেন, যা শুধু তাঁর পক্ষেই সম্ভব ছিল।
নব্বইয়ের দশকের শুরুতে বার্লিন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে পরিচালক গাস ভ্যান সেন্টের সঙ্গে দেখা হওয়ার মধ্য দিয়ে কিয়ারের কর্মজীবনের নতুন অধ্যায় শুরু হয়। ভ্যান সেন্ট তাকে ‘মাই প্রাইভেট ইডাহো’ ছবিতে হলিউডের তারকা কিয়ানু রিভস ও রিভার ফিনিক্সের সঙ্গে অভিনয়ের সুযোগ দিয়েছিল। এর মাধ্যমেই আমেরিকান দর্শকরা উডো কিয়ারকে ভালোভাবে চিনে নেয়।
প্রায় একই সময়ে শুরু হয় ডেনিশ পরিচালক লার্স ভন ত্রিয়ের-এর সাথে তার আরেক গুরুত্বপূর্ণ পদচারণা। ‘ইউরোপা’, ‘ব্রেকিং দ্য ওয়েভস’, ‘ড্যান্সার ইন দ্য ডার্ক’, ‘ডগভিলে’, ‘মেলানকোলিয়া’, ‘নিম্ফোম্যানিয়াক: ভলিউম ২’ ত্রিয়েরের প্রায় সব বড় কাজেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় দেখা যায় কিয়ারকে।
পতাকানিউজ/কেএ

