নরসিংদীর মাধবদীতে কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরাকে (২৮) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি রাত ৯টায় গাজীপুরের মাওনা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আহম্মদ আলী দেওয়ানসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি রাতে উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এর আগে বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি রাতে উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আহম্মদ আলী দেওয়ানসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ গ্রেপ্তার অন্যরা হলেন- আহম্মদ আলী দেওয়ানের ছেলে মো. ইমরান দেওয়ান (৩২), একই এলাকার মৃত সাহাবুদ্দিনের ছেলে এবাদুল্লাহ (৪০), মো. আজগর আলীর ছেলে মো. আইয়ুব (৩০) ও হোসেন বাজার এলাকার মৃত মজিবুরের ছেলে গাফ্ফার (৩৪)।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে নিহত কিশোরীর মা বাদী হয়ে মাধবদী থানায় মামলা করেন।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, ধর্ষণের বিচার চাওয়ায় বাবার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে কিশোরীকে পুনরায় ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করে মরদেহ সরিষা খেতে ফেলে দেয়া হয়।
এদিকে অভিযোগ ওঠার পর আহাম্মদ আলী দেওয়ানকে দলীয় প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব ধরনের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। শুক্রবার রাতে সদর উপজেলা বিএনপির এক নোটিশে এ তথ্য জানানো হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, কিশোরীর বাবা বরিশালের বাসিন্দা। কাজের সুবাদে স্ত্রী-কন্যাসহ মাধবদীর বিলপাড় এলাকায় ভাড়ায় বসবাস করতেন তারা। ১৫ দিন আগে স্থানীয় বখাটে নূরার নেতৃত্বে ৫-৬ জনের একটি দল এলাকা থেকে মেয়েটিকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করে। ধর্ষণের পর বিচার চেয়ে নিহতের পরিবার মহিসাষুরা ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আহম্মদ আলী দেওয়ানের কাছে যায়। সেখানে ধর্ষক ও তাদের সহযোগীরা মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে রফাদফার চেষ্টা করেন।
এরপর রফাদফা না হওয়ায় নিহতের পরিবারকে গ্রাম ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করা হয়। এমন পরিস্থিতিতে বুধবার রাতে কাজ শেষে মেয়েকে নিয়ে খালার বাড়িতে রেখে আসতে যাচ্ছিলেন। পথে বড়ইতলা এলাকায় পৌঁছালে নূরার নেতৃত্বে আরও পাঁচজন কিশোরীকে তুলে নিয়ে যায়। পরে পরিবারের লোকজনসহ বেশ কিছুক্ষণ খোঁজাখুঁজির পর না পেয়ে বাড়ি ফিরে যান। বৃহস্পতিবার দুপুরে একই এলাকার একটি সরিষা খেত থেকে গলায় ওড়না পেঁচানো মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে থানায় খবর দিলে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে।
কিশোরীর পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, ধর্ষণের বিচারের দায়িত্ব নিয়ে আহম্মদ আলী দেওয়ান অপরাধীদের সঙ্গে রফাদফা করে মোটা অঙ্কের অর্থ আত্মসাৎ করেন এবং ঘটনা ধামাচাপা দেন। পাশাপাশি কিশোরীর পরিবারকে গ্রাম ছেড়ে চলে যেতে চাপ দেন।
মাধবদী থানার ওসি মো. কামাল প্রধান আসামি নূরাকে গ্রেপ্তারের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘কিশোরীরে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় ৯ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। ইতিমধ্যে প্রধান আসামি নূরাসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’
পতাকানিউজ/আরবি

