ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে বুধবার ভোররাত থেকে সকাল পর্যন্ত পৃথক তিনটি সড়ক দুর্ঘটনায় পাঁচজন নিহত এবং অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। আহতদের কুমিল্লার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
দাউদকান্দি উপজেলার কানড়া এলাকায় ভোররাতে ঘটে প্রথম দুর্ঘটনা। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সিএনজি চালিত একটি অটোরিকশায় ছয়জন যাত্রী বাড়ি ফিরছিলেন। এই সময় মহাসড়কে উল্টো পথে পারাপারের চেষ্টা করার সময় দ্রুতগতির অজ্ঞাত একটি গাড়ি অটোরিকশাটিকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই দুই অটোরিকশা চালক মারা যান। নিহতরা হলেন—সরকারপুর গ্রামের মৃত লতু মিয়ার ছেলে বারেক (৪২) এবং মো. নুর ইসলামের ছেলে মোস্তফা (৪০)। পেশায় তারা অটোরিকশা চালক ছিলেন।
এই দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন নবীর হোসেন (৩৮), কাওসার (৪০), ইসমাইল (৩৭) ও সাগর মিয়া (৩৫)। প্রত্যেককে কুমিল্লার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহতদের স্বজনরা জানিয়েছেন, তারা মতলবের বেলতলী এলাকায় একটি মেলা থেকে বাড়ি ফেরার পথে দুর্ঘটনার শিকার হন।
এর আগে ভোর ৩টা ৪৫ মিনিটে কুমিল্লার নিমসার বাজার সংলগ্ন ইউটার্নে আরও একটি দুর্ঘটনা ঘটে। এতে দুই যুবক নিহত হন। মৃতদের পরিচয় পাওয়া গেছে—নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার লালপুর গ্রামের মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম মইন (২৭) এবং মেহেরপুর সদর উপজেলার কেশবপুর গ্রামের মো. সোহেল রানা (৩৫)।
ময়নামতি হাইওয়ে পুলিশ জানায়, ঢাকা অভিমুখী লেনে সংঘটিত এই দুর্ঘটনার পর পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে। দুর্ঘটনার কারণ ও সংশ্লিষ্ট যানবাহন শনাক্তের কাজ চলছে।
সকাল সাড়ে ৯টার দিকে চান্দিনা উপজেলার কাঠের পুল এলাকায় সড়ক পারাপারের সময় নবম শ্রেণির ছাত্র ইবনে তাইম নিহত হন। তিনি চান্দিনা পৌরসভার রাড়িরচর এলাকার বাবুল মিয়ার ছেলে এবং বড় গোবিন্দপুর আলী মিয়া ভূইয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। স্থানীয়রা জানান, কোচিং শেষ করে বাড়ি ফেরার পথে ইউটার্ন পারাপারের সময় চট্টগ্রামগামী একটি লরি তাকে চাপা দেয়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে এলাকাবাসী ঘাতক লরিটি আটক করে।
দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ওসি মো. ইকবাল বাহার মজুমদার এবং ময়নামতি হাইওয়ে থানার ওসি আব্দুল মমিন পৃথকভাবে জানান, দুর্ঘটনাগুলোর বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং নিহতদের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
-সূত্র : বাসস
-পতাকানিউজ

