বহুল আলোচিত কৃষক কার্ড কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ মঙ্গলবার দুপুরে বৈশাখী দিনে টাঙ্গাইলের কৃষকদের হাতে তুলে দেন কৃষক কার্ড। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের কৃষকদের হাতে পৌঁছলো সরকার নতুন উপহার। যা দিয়ে কৃষকেরা নানা ধরনের সেবা পাবেন বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এ কর্মসূচির সূচনা করেন এবং প্রতীকীভাবে ১৫ জন কৃষক ও কৃষাণীর হাতে কৃষক কার্ড ও গাছের চারা তুলে দেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী টাঙ্গাইল পৌর উদ্যানে বাংলা নববর্ষ উপলক্ষ্যে কৃষি মেলার শুভ উদ্বোধন করেন।
সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন এই উদ্যোগের আওতায় প্রথম ধাপে দেশের ১০টি জেলার ১১টি উপজেলায় প্রায় ২১ হাজার ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকের মধ্যে কৃষক কার্ড বিতরণ করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, কৃষিকে আধুনিক ও লাভজনক পেশায় রূপান্তর করতে হলে কৃষকদের প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি এবং সরাসরি সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি। কৃষক কার্ড সেই লক্ষ্যেই চালু করা হয়েছে। তিনি জানান, এ কার্ডের মাধ্যমে কৃষক, মৎস্যচাষি ও দুগ্ধ খামারিরা সরাসরি নগদ প্রণোদনা, ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ, সেচসুবিধা, সহজ শর্তে ঋণ, কৃষিবিমা এবং অন্যান্য মিলিয়ে মোট ১০ ধরনের বিশেষ সুবিধা পাবেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ভর্তুকি ও প্রণোদনা বিতরণে মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে অনেক প্রকৃত কৃষক বঞ্চিত হয়েছেন। কৃষক কার্ড চালুর মাধ্যমে সেই জটিলতা কমবে এবং সহায়তা পৌঁছাবে সরাসরি কৃষকের হাতে। তাঁর ভাষায়, ‘কৃষককে শক্তিশালী না করলে দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হবে না। কৃষি আমাদের খাদ্যনিরাপত্তা ও গ্রামীণ অর্থনীতির মূল ভিত্তি।’
সরকার আগামী চার বছরে দেশের ১ কোটি ৬৫ লাখ কৃষকের হাতে কৃষক কার্ড পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৮১ কোটি টাকা। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এই উদ্যোগ কৃষি খাতে ভর্তুকি ও সহায়তা বণ্টনে স্বচ্ছতা বাড়াবে এবং কৃষকের আয় বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
এর আগে সোমবার অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি পরিদর্শন শেষে কৃষিমন্ত্রী জানান, প্রথমে টাঙ্গাইলসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রি-পাইলটিং কার্যক্রম শুরু হবে। এরপর পাইলটিং শেষে পর্যায়ক্রমে সারাদেশে কৃষক কার্ড বিতরণ সম্প্রসারণ করা হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুরো দেশের কৃষকদের এই সুবিধার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর এটিই তারেক রহমানের টাঙ্গাইলে প্রথম সফর হওয়ায় স্থানীয় নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ দেখা যায়। অনুষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক কৃষক ও কৃষি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির উপস্থিতি ছিলেন।
পরে প্রধানমন্ত্রী কৃষি মেলা উদ্বোধন করেন। সেখানে কৃষি প্রযুক্তি, উন্নত বীজ, আধুনিক যন্ত্রপাতি ও কৃষিভিত্তিক উদ্ভাবনের বিভিন্ন প্রদর্শনী হচ্ছে। আয়োজকেরা আশা করছেন, কৃষক কার্ড ও কৃষি মেলার সমন্বিত উদ্যোগ দেশের কৃষিখাতে নতুন গতি সঞ্চার করবে।
-পতাকানিউজ

