কৃষ্ণসাগরে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা দুটি রুশ ট্যাংকারে ড্রোন হামলা চালিয়ে উড়িয়ে দিয়েছে ইউক্রেন। ক্ষতিগ্রস্ত দুই ট্যাংকারের নাম হলো কাইরোস ও ভিরাট। স্থানীয় সময় শনিবার, ২৯ নভেম্বর ইউক্রেনের নিরাপত্তা সেবার একজন কর্মকর্তা রয়টার্সকে এ তথ্য জানান। প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্যাংকার দুটি বিদেশে রপ্তানির জন্য তেল নিতে কৃষ্ণসাগরের প্রধান রুশ টার্মিনাল নভোরোসিস্ক বন্দরে যাচ্ছিল। তবে হামলার সময় ট্যাংকার দুটি খালি ছিল।
ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, দ্রুতগতির নৌ ড্রোন বিশাল ট্যাংকারের দিকে গিয়ে শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটায় এবং আগুন ধরে যায়। তবে রয়টার্স স্বাধীনভাবে ভিডিওর ট্যাংকার বা স্থান-সময় যাচাই করতে পারেনি।
ইউক্রেনের নিরাপত্তা সেবার ওই কর্মকর্তা বলেছেন, জ্বালানি তেল বিক্রির মাধ্যমে ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য অর্থের সংস্থান করছে মস্কো। তাই দীর্ঘদিন ধরেই রাশিয়ার জ্বালানি তেল এবং জ্বালানি ব্যবসার অবকাঠামো লক্ষ্য করে দীর্ঘদিন ধরে হামলা পরিচালনা করছে ইউক্রেনীয় বাহিনী। এর অংশ হিসেবেই নাভাল ড্রোন দিয়ে ধ্বংস করা হয়েছে কাইরোস এবং ভিরাটকে। নাভাল ড্রোন হলো একপ্রকার বিস্ফোরকবাহী চালকবিহীন নৌযান। সাগরে যুদ্ধজাহাজে হামলার ক্ষেত্রে এই ধরনের ড্রোন ব্যবহার করা হয়।
ইউক্রেনের নৌবাহিনীর ওই কর্মকর্তা রয়টার্সকে এক লিখিত বার্তায় বলেছেন, ‘হামলার ভিডিও আমাদের কাছে আছে। সেটি পর্যালোচনা করে আমরা বুঝতে পেরেছি যে নাভাল ড্রোনের আঘাতে ট্যাংকার জাহাজ দুটির গুরুতর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং সেগুলো আর চলাচলের উপযোগী অবস্থায় নেই। এই হামলার মাধ্যমে রাশিয়ার তেল বাণিজ্য ও তেল পরিবহনের ক্ষেত্রে আমরা বড় ধরনের আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছি।’
এদিকে কৃষ্ণসাগরের তীরবর্তী দেশ তুরস্কের পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ড্রোন হামলার পর দুই ট্যাংকার জাহাজের ক্রুদের উদ্ধার করে সরিয়ে নিয়েছে তুর্কি কোস্টগার্ড বাহিনী। এই হামলায় কৃষ্ণসাগরের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পথে নতুন ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে হয়েছে বলে উদ্বেগ জানিয়েছে তুরস্কের পরিবহন মন্ত্রণালয়। রাশিয়ার প্রতিবেশী কাজাখস্তানও এ হামলার নিন্দা জানিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এ ইস্যুতে কোনো মন্তব্য কিংবা প্রতিক্রিয়া দেখায়নি মস্কো।
পতাকানিউজ/এএইচ

