বাংলাদেশে আইপিএল সম্প্রচারের ওপর সরকার নতুন করে নমনীয় অবস্থান গ্রহণ করেছে। তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন শনিবার জানিয়েছেন, বাংলাদেশে আইপিএল সম্প্রচারের ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই।
তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে আইপিএল সম্প্রচারের জন্য কোনো আবেদন এখনও আসে নি। খেলাধুলাকে আমরা রাজনীতির সঙ্গে মিশাতে চাই না। কেউ চাইলে আবেদন করলে আমরা ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করব।’
তথ্যমন্ত্রী আরও জানান, স্টার স্পোর্টসের মাধ্যমে আইপিএল সম্প্রচার করা হলে সরকার বাধা দেবে না। তিনি বলেন, ‘আমরা কাউকে বাধা দেব না। দেখা যাবে, যাবে। জোর করে কিছু করা হবে না।’
ক্যাবল অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (কোয়াব) দপ্তর সম্পাদক রেজাউল করিম লাভলু বলেন, ‘স্টার স্পোর্টসে আইপিএল দেখানো সম্ভব হলে তা দেখানো হবে। আমাদের কেউ বন্ধ রাখতে বলেনি। আগের অন্তর্বর্তী সরকারের নিষেধাজ্ঞার এখন কোনো কার্যকারিতা নেই।’
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকও এই বিষয়ে মন্তব্য করে বলেছেন, ‘খেলাধুলার মধ্যে রাজনীতি ঢোকানো ঠিক নয়। আমরা ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চাই।’ তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, ‘বাংলাদেশে আইপিএল সম্প্রচার সম্ভব নয় ভেবে আমরা পিএসএলের সম্প্রচারের স্বত্ব কিনেছিলাম। এখন নতুনভাবে কিছু ভাবার সুযোগ তৈরি হয়েছে।’
মোস্তাফিজ ও বিশ্বকাপ
আইপিএল সম্প্রচারের ওপর এই নতুন দিকটি আসে সেই ঘটনার প্রেক্ষাপটে, যখন বাংলাদেশের বাঁহাতি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। ওই সময়ের অন্তর্বর্তী সরকার মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে আইপিএল সম্প্রচারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। তথ্য মন্ত্রণালয়ের তখনকার বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, ‘ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের এই সিদ্ধান্তের যৌক্তিক কারণ জানা নেই এবং এটি বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে ব্যথার বিষয়।’
মোস্তাফিজ বাদ দেওয়ার মূল কারণ হিসেবে কলকাতা নাইট রাইডার্স এবং বিসিসিআইকে দেওয়া উগ্রবাদী চাপ এবং হুমকিকে উল্লেখ করা হয়েছিল। নিরাপত্তার অজুহাতে বাঁহাতি এই পেসারকে দলের বাইরে রাখা হয়। পরবর্তীতে নিরাপত্তার কারণে বাংলাদেশ ভারতে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও অংশ নেয়নি।
সূত্র : ডয়েস ভেলে
-পতাকানিউজ

