কোন জাদুবলে আওয়ামী লীগ সরকার আমলের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মাধবী মারমা বিএনপি সরকার আমলে সংরক্ষিত আসনে সংসদ সদস্য মনোয়নয়ন পেয়েছেন?
– তা নিয়ে পাবর্ত্য জেলা বিএনপি নেতা-কর্মীদের মধ্যে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। কী এমন জাদুমন্ত্র দিয়ে এই পদে নিজের নাম অন্তর্ভূক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন, সেটা জানতে তাকে একাধিক দফা ফোন করা হয় এবং হোয়াটসঅ্যাপে ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হয়, কিন্তু অপরপ্রান্ত থেকে তিনি সাড়া দেননি। ফলে ‘যাদুমন্ত্রের’ বিষয়ে বিএনপির বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা যে তথ্য দিচ্ছেন তা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
পাবর্ত্য জেলা বিএনপি নেতাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বান্দরবানে বিএনপির কোন পদে না থেকেও সংরক্ষিত নারী আসনে তিন পার্বত্য জেলার মহিলা সংসদ সদস্য হিসেবে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন অ্যাভোকেট মাধবী মার্মা।
সোমবার বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে মনোনীত ৩৬ জন প্রার্থীর মধ্যে তার নাম ঘোষনা করা হয়। এরপর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাকে নিয়ে বিএনপি নেতা কর্মীরা ক্ষোভ ঝাড়তে শুরু করেন।
নেতাকর্মীদের অভিযোগ, দলের কোন সদস্য নয়। দুঃসময়ে দলের আন্দোলন সংগ্রামে কখনো তাকে দেখা যায়নি, তিনি কখনো বিএনপির রাজনীতি করেনি। তার মতো একজনকে বিএনপির মহিলা এমপির মনোনয়ন দিয়ে বান্দরবানসহ তিন পার্বত্য জেলার ত্যাগী বিএনপি নেত্রীদের অপমান করা হয়েছে।
এভাবে হলে মানুষ আর বিএনপি করতে চাইবে না। ত্যাগ, শ্রম ও মামলা-হামলা কারাবরণ সহ্য করে যারা রাজনীতি করেছেন তাদের দলীয় সুসময়ে মূল্যায়ন করা হয়নি। এমন ব্যক্তিকে মূল্যায়ন করা হলো যিনি কখনো দল করেননি। দলীয় পদেও নেই। তাকে মনোনয়ন দেওয়া কোনো বিবেচনাতেই যৌক্তিক হয়নি। -এমনটাই মনে করছেন তৃণমূল বিএনপির নেতা-কর্মীরা।
এ বিষয়ে বান্দরবান জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মুজিবুর রশীদ বলেন, ‘আমার জানামতে মাধবী মার্মা বান্দরবান জেলা বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কোন পদে ছিলেন না। তবে তাকে বিএনপির মিছিল মিটিং এ দেখেছি মাঝেমধ্যে। দলের কেন্দ্রীয়পর্যায় থেকে তাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ তিনি কিভাবে মনোয়ন পেলেন সেই বিষয়ে দলের হাই কমান্ড ভাল বলতে পারবে।’
বিএনপি নেতাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অ্যাডভোকেট মাধবী মার্মার বাড়ী রাঙামাটি জেলার কাপ্তাই উপজেলার ডং নালা এলাকায়। বৈবাহিক সুত্রে তিনি বান্দরবানের বাসিন্দা এবং বর্তমানে বান্দরবান শহরের উজানী পাড়া এলাকায় বসবাস করেন। পেশায় তিনি একজন আইনজীবী। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি এলএলবি এবং এলএলএম পাশ করেন।

তিনি ২০০৯ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বান্দরবানে সহকারী আইন কর্মকর্তা ছিলেন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তিনি বান্দরবান জেলা পরিষদের সদস্য মনোনীত হন এবং এখনো দায়িত্ব পালন করছেন।
বিএনপি নেতাদের তথ্য বলছে, অ্যাডভোকেট মাধবী মারমা এক সময় আওয়ামী লীগের পক্ষে ফৌজদারি (ক্রিমিনাল) মামলায় সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটরের (এপিপি) দায়িত্ব পালন করেছেন। বিএনপির দলীয় কার্যক্রমে তেমন সক্রিয় না থাকার পাশাপাশি দলীয় পদবীও ছিল না তার।
ক্ষোভ
অন্যদিকে অন্য প্রার্থীরা দলের দুঃসময়ে যেমন দলকে সময় দিয়েছিলেন নির্যাতিতও হয়েছিলেন। মনোনয়নে ত্যাগীদের মূল্যায়ন না করায় দলীয় একাংশে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সিনথি ইয়া লেখেন, ‘আওয়ামী লীগের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর মাধবী মারমা বিএনপির মহিলা এমপি নির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন৷ অ্যাডভোকেট মাধবী মারমা ২০০৯-২০১৫ পর্যন্ত আওয়ামী সরকারের দলীয় এপিপি ছিলেন। পরবর্তীতে ২০১৫ সালে আওয়ামী সরকার কতৃক মনোনীত নোটারী পাবলিকের আইনজীবী ছিলেন। আবারও অভিনন্দন আপু।’
বান্দরবান শ্রমিকদলের প্রচার সম্পাদক জগদ্বীস বড়ুয়া বলেন, ‘মাধবী মারমা কোনো সময় দলের পক্ষে কাজ করেননি ও পদ পদবিও ছিল না। নির্বাচনের সময় আসা যাওয়া শুরু করেন তিনি।’ এ নিয়ে দলীয় ত্যাগীদের মূল্যায়ন না করায় দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে বলে জানান তিনি।
বান্দরবানের জিয়া সাইবার ফোর্সের যুগ্ম-আহ্বায়ক লিখেছেন, ‘আওয়ামী লীগ আমলে এপিপি! অন্তরর্বর্তীতে জেলা পরিষদের সদস্য! বিএনপিতে সংরক্ষিত সংসদ সদস্য! মাধবী মারমা সত্যি সে অসাধারণ মেধাবী! অভিনন্দন।’
এ বিষয়ে জানতে মাধবী মারমাকে মুঠোফোনে একাধিক বার কল ও হোয়াটসঅ্যাপে ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
প্রসঙ্গত, তিন পার্বত্য জেলার সংরক্ষিত মহিলা আসনে বান্দরবান থেকে ৪ জন প্রার্থী মনোনয় সংগ্রহ করেন। তারা হলেন জেলা মহিলা দলের সিনিয়র সহসভাপতি উম্মে কুলসুম লীনা, সাধারন সম্পাদক অ্যাডভোকেট উমেসিং মার্মা, যুগ্ম সম্পাদক শিরিনা আক্তার ও এড মাধবী মার্মা। এদের মধ্যে সর্বাধিক আলোচনায় ছিলেন উম্মে কুলসুম লীনা। কিন্তু মনোনয়ন তালিকায় দেখা কুলসুম লীনা বা অ্যাডভোকেট উমেসিং মার্মার নাম পাওয়া গেল না। মাধবী মার্মার নাম পাওয়া গেল। এই নিয়ে নেতা-কর্মীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ ঝাড়তে শুরু করেছেন।
-পতাকানিউজ/আরআর

