পবিত্র কোরআন শরীফ অবমাননার দায় স্বীকার করেছেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অপূর্ব পাল। আজ রবিবার (১৯ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সেফাত উল্লাহর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন তিনি।
রিমান্ডের মেয়াদ শেষে পুলিশ তাকে আদালতে হাজির করে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই চাঁদ মিয়া তার জবানবন্দি রেকর্ডের আবেদন করেন। আদালত ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণ শেষে অপূর্ব পালকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভাটারা থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা এসআই জাকির হোসেন।
এর আগে, গত ১৪ অক্টোবর তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। তারও আগে, ৫ অক্টোবর গ্রেপ্তারের পর অপূর্ব পালের বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে মামলা হয় এবং সেদিনই তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
গত ৪ অক্টোবর সকালে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে কোরআন শরীফ অবমাননার অভিযোগ ওঠে অপূর্ব পালের বিরুদ্ধে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি পবিত্র কোরআন শরীফকে পা দিয়ে পাড়াচ্ছেন এবং লাথি মেরে সরিয়ে দিচ্ছেন। এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে এবং তাকে প্রক্টর অফিসে নিয়ে যায়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে ক্যাম্পাস থেকে বহিষ্কার করে।
ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি অপূর্ব পাল নিজেও তার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে সেই ভিডিও প্রকাশ করেন।
পরে মধ্যরাতে উত্তেজিত শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় তার বাসার নিচে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অপূর্ব পালকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। তবে তখন বিক্ষুব্ধ জনতা তাকে মারধর করে। পরবর্তীতে পুলিশ তাকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেয়।
এ ঘটনায় ভাটারা থানার এসআই হাসমত আলী বাদী হয়ে অপূর্ব পালের বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার মামলা করেন।
মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিতে অপূর্ব পাল বলেছেন, ঘটনার দিন তিনি নিজ হাতে কোরআন শরীফ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেন। পরে সেটি ফেলে পা দিয়ে পাড়াতে থাকেন। আদালতে তিনি স্বীকার করেন যে, ইচ্ছাকৃতভাবেই তিনি কাজটি করেছেন এবং এতে পবিত্র কোরআন অবমাননা হয়েছে বলে তিনি নিজেও মনে করেন।
পতাকানিউজ/এনটি

