রাজধানীর গুলশান থানায় দায়ের করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় কেসিনোকাণ্ডে আলোচিত ব্যবসায়ী সেলিম প্রধানকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার (৩ নভেম্বর) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জিয়াদুর রহমান এ আদেশ দেন।
সেদিন সকালে সেলিম প্রধানকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। শুনানির সময় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোজাম্মেল হক মামুন তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. হারুনুর রশিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গত ৬ সেপ্টেম্বর ভোরে রাজধানীর বারিধারার একটি রেস্তোরাঁয় অভিযান চালিয়ে সেলিম প্রধানসহ নয়জনকে আটক করে পুলিশ। এ সময় ৬ দশমিক ৭ কেজি সিসা, সাতটি সিসা স্ট্যান্ড ও বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনায় তাঁদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়। পরবর্তী সময়ে সেলিম প্রধানকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলাতেও গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ২২ এপ্রিল সকাল সাতটার দিকে গুলশান–১ এর ১৩৬ নম্বর রোডের জব্বার টাওয়ারের পাশে সেলিম প্রধানসহ ৩০ থেকে ৩৫ জন ব্যক্তি নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের অর্থদাতা, পরামর্শদাতা ও নির্দেশদাতা হিসেবে সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রের উদ্দেশ্যে সেখানে সমবেত হন। অভিযোগে আরও বলা হয়, ওই সময়ে সংগঠনটির ব্যানারে উপস্থিত নেতাকর্মীরা সরকার ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন। পুলিশ সেখানে উপস্থিত হয়ে পাঁচজনকে আটক করে, তবে বাকিরা পালিয়ে যায়।
ওই ঘটনার পর পুলিশ বাদী হয়ে গুলশান থানায় মামলা দায়ের করে। তদন্তে পুলিশ জানায়, সেলিম প্রধান ছাত্রলীগসহ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সংগঠিত করতে অর্থ সহায়তা দিয়েছেন এবং ঝটিকা মিছিল পরিচালনার জন্য অর্থের জোগান দিয়েছেন—এমন প্রমাণ তাঁদের হাতে এসেছে।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের সময় হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে থাইল্যান্ডগামী একটি বিমানে ওঠার আগমুহূর্তে সেলিম প্রধানকে র্যাব আটক করে। পরে তাঁর বাসা ও অফিসে অভিযান চালিয়ে দেশি–বিদেশি মুদ্রা ও বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ জব্দ করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, সেলিম প্রধানই বাংলাদেশে অনলাইন ক্যাসিনো বা ভার্চ্যুয়াল জুয়ার অন্যতম প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন।
তাকে গ্রেপ্তারের পর তাঁর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, অর্থপাচার প্রতিরোধ আইনসহ একাধিক মামলা দায়ের হয়। এসব মামলার একটিতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা অভিযোগে তিনি চার বছরের কারাদণ্ডও ভোগ করেছেন।
পতাকানিউজ/এনটি

