ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মানের জন্য ভূমিধস জয় পেয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান এখন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার অপেক্ষায়। ২০০৬ সালে রাষ্ট্রক্ষমতা হারানোর বিএনপি পুনরায় ক্ষমতায় আরোহন করছে ২০ বছর পর।
দুই দশক পর পুনরায় বিএনপি ক্ষমতায় আরোহনের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিএনপির এক জায়গায় অন্তমিল হয়ে গেছে। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা হারিয়েছিল ৭৫-এর পটপরিবর্তনের পর। ১৯৭৫ সালে ক্ষমতা হারানো আওয়ামী লীগকে পুনরায় ক্ষমতায় ফিরতে অপেক্ষা করতে হয়েছিল ২১ বছর। দলটি ক্ষমতায় ফিরেছিল ১৯৯৬ সালে।
বিএনপি ক্ষমতা হারানোর ২০ বছর এবং আওয়ামী লীগ ২১ বছর পর ক্ষমতা ফিরে পাওয়ার মাধ্যমে দুই দলের অন্তমিল খুঁজে পাওয়া যায়। দুটি দলের মধ্যে এমন এক সময়ে অন্তমিল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে, যখন পতিত আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা তখন পলাতক।
ফ্যাসিবাদী শাসন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে তরুণ সমাজের ‘বিদ্রোহের আগুনে পুড়ে’ এখন আওয়ামী লীগ যেন এক ভূস্মিভূত দলের নাম। দলটির প্রধানসহ শীর্ষ নেতাদের বেশির ভাগ পলাতক। মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ইতোমধ্যে শেখ হাসিনাসহ বেশ কয়েকজন নেতা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুন্যাল থেকে মৃত্যুদণ্ড পেয়েছেন।
ভারতে বসে দলটির সভানেত্রী বাংলাদেশের নির্বাচন বানচালের হুমকি ধমকিও দিয়েছিলেন বটে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশে গত বৃহস্পতিবার এমন এক নির্বাচন হলো—যা বাংলাদেশ রাষ্ট্র জন্মের পর যেন আর হয়নি। ভোটের দিন কোনো রক্তপাত নেই!
অথচ, এই বাংলাদেশেই ২০১৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। নির্বাচনের সেই কালো অধ্যায় রচিত হয়েছিল শেখ হাসিনার হাত ধরেই।
যাই হোক, ক্ষমতায় ফিরতে আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিএনপির সময়ের অন্তমিল এমন এক সময়ে আলোচনায় এসেছে, যখন বিএনপির হাত ধরেই এই দেশে আওয়ামী লীগ রাজনীতিতে ফিরছে বলে গুঞ্জন চলছে।
অবশ্য, সেই গুঞ্জনে ঘি পড়েছে। পঞ্চগড় জেলার চাকলাহাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের তালাবদ্ধ কার্যালয় বিএনপির স্থানীয় এক নেতার হাতে দেওয়ার মাধ্যমে। মানে, বিএনপির কাঁধে চড়ে আওয়ামী লীগ পুনরায় রাজনীতিতে ফিরছে-এমন গুঞ্জন আরো জোরালো হলো স্থানীয় পর্যায় থেকে।

অন্তবর্তীকালীন সরকার আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারেনি আওয়ামী লীগ। ফলে আগামী দিনে আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে ফিরতে হলে অবশ্যই বিএনপির আনুকূল্য প্রয়োজন হবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।
এমন বিশ্লেষণ বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে যাচ্ছে। কারণ ভোটের আগের একাধিক জরিপে দেখা গেছে, নির্বাচন থেকে নির্বাসিত আওয়ামী লীগ সমর্থকদের বেশির ভাগ ভোট পড়বে বিএনপির বাক্সে। বাস্তবে তাই হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। বিএনপি ভূমিধস জয় পেয়েছে। ৬০ শতাংশের কম ভোটার কেন্দ্রে গেছেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। এর মধ্যেই বিএনপি ২০৯ টি আসন জয় করেছে।
বিএনপির এমন জয়ের সংবাদে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ শক্ত নড়াচড়া দেখা গেছে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ এবং ছাত্রলীগ নেতাদের মধ্যে। তারা যেন স্বস্তি পেয়েছেন এবং পুনরায় রাজনীতিতে ফিরবেন এমন তথ্য তাদের কাছে পৌঁছে গেছে।
বিএনপির হাত ধরে পুনরায় বাংলাদেশের রাজনীতিতে ফেরার অপেক্ষায় থাকা আওয়ামী লীগের জন্য বিএনপি চেয়ারম্যান এবং আগামীর প্রধানমন্ত্রীর একটি বার্তাও বেশ আলোচিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক একটি গণমাধ্যমে সাক্ষাৎ দেওয়ার সময় তারেক জিয়াকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী কিংবা তার সন্তান সজীব ওয়াজেদসহ অন্যরা রাজনীতিতে ফিরতে পারবেন কি না? জবাবে তারেক রহমান কৌশলী উত্তরের মমার্থ ছিল, ‘বাংলাদেশের জনগণ চাইলে পারবে।’
এখন ক্ষমতায় ফিরতে দুই দশকের অন্তমিলের মতোই আওয়ামী লীগ রাজনীতিতে ফিরতে অন্তমিল খুঁজে পাবে কি না—তা ভাবনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ১৯৭৫ সালে ক্ষমতা হারানোর আওয়ামী লীগ পুনরায় সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরেছিল শেখ হাসিনা ১৯৮১ সালে স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর। দেশে ফিরে তিনি প্রায় নিষ্ক্রিয় আওয়ামী লীগকে পুনরুজ্জীবিত করেছিলেন।
যদিও ১৯৮১ সালে শেখ হাসিনাকে স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের অনুমতি দিয়েছিলেন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। তখনও শেখ হাসিনা ভারতে ছিলেন। এখনো শেখ হাসিনা ভারতেই আছেন। এবার অনুমতি কি তারেককে দিতে হবে? –এমন প্রশ্নই নতুন করে সামনে আসতে শুরু করেছে। যদিও ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুন্যাল শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে।

১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমানের অনুমতি নিয়ে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করা শেখ হাসিনাকে পুনরায় স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করতে যদি আগামীর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তথা সরকারের রাজনৈতিক অনুমতি নিতে হয়—তাহলে সেটি আরেকটি মিল হবে। তখন বাবা জিয়াউর রহমান এবং ছেলে তারেক রহমানের অনুমতি নিয়েই শেখ হাসিনাকে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করার নজির তৈরি হবে।
সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরতে আওয়ামী লীগের কতো সময় লাগবে
তারুণ্যের বিদ্রোহের আগুনে পোড়া আওয়ামী লীগ ক্ষমতা হারায় ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে। সময় হিসেবে এখনো মাত্র ১৭ মাস বা দেড় বছরের কম। যদি আওয়ামী লীগ নতুন বাংলাদেশের চালকের আসনে বসা বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কৌশলগত আনুকূল্য পায়—তাহলে আওয়ামী লীগকে নিকট ভবিষ্যতে সক্রিয় রাজনীতিতে দেখা যেতে পারে।
আর যদি তারেক রহমানের কৌশলগত আনুকূল্য না পায়, তাহলে হয়তো অপেক্ষা করতে হতে পারে বিএনপি মেয়াদের পাঁচ বছর। মানে, তখন হয়তো ছয়-সাত বছরের বেশি সময় লাগতে পারে আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে ফিরতে।

সেই ক্ষেত্রে, আওয়ামী লীগের ক্ষমতা হারানোর দলকে সক্রিয় করতে ১৯৭৫ থেকে ১৯৮১ সালের মতো ছয় বছরের বেশি সময় লাগতে পারে। তখন সেটা হবে আওয়ামী লীগের জন্য নিষ্ক্রিয়তা কাটিয়ে সক্রিয় রাজনীতিতে ফেরার অন্তমিল।
অবশ্য, ভূ-রাজনীতি, প্রতিবেশী দেশ ভারতের ইচ্ছা-অনিচ্ছাসহ অনেক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে নতুন সরকার প্রধানকে সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে। তাই বিষয়টি এখনো ঝাপসা।
আওয়ামী লীগ: ৭৫-এ পতন, ৯৬-এ পুনরুত্থান
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রক্ষমতা থেকে ছিটকে পড়েছিল। এরপর সামরিক শাসন এবং নতুন রাজনৈতিক শক্তি বিএনপির উত্থান আওয়ামী লীগের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়েছিল। প্রায় ছয় বছর পর ১৯৮১ সালে শেখ হাসিনা স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করে দলটির জন্য পুনর্গঠন, নেতৃত্ব সংকট এবং রাজনৈতিক সংগ্রাম করেছিলেন।
শেখ হাসিনার ওই প্রত্যাবর্তনের সময় অনুমতি দিয়েছিলেন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। দেশে ফিরে তিনি আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্গঠন এবং আন্দোলনমুখী রাজনীতিতে দলকে ফেরানোর কাজ শুরু করেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই সময় থেকেই আওয়ামী লীগ ধীরে ধীরে জনমুখী বিরোধী শক্তিতে পরিণত হয়।
১৯৮২ সালে সামরিক শাসক এইচ এম এরশাদ ক্ষমতা দখলের পর আওয়ামী লীগ গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবিতে আন্দোলনে সক্রিয় হয়। ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান শুধু সামরিক শাসনের পতন ঘটায়নি; এটি আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পুনর্জন্মের পথও খুলে দেয়। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করতে ব্যর্থ হলেও শক্তিশালী বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। আর ১৯৯৬ সালে রাষ্ট্রক্ষমতায় পৌঁছে যায় আওয়ামী লীগ এবং প্রধানমন্ত্রী হন শেখ হাসিনা।
বিএনপির ২০০৬–২০২৬ ক্ষমতার বাইরে থাকা
২০০৬ সালে বিএনপি সরকার মেয়াদ শেষ হলেও রাজনৈতিক অচলাবস্থা, সেনা-সমর্থিত অন্তর্বর্তীকালীন শাসন এবং পরবর্তী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ প্রত্যাবর্তন দেশের রাজনৈতিক ভারসাম্যকে বদলে দেয়।
২০০৬–২০০৭ সময়কাল বিএনপির জন্য বিশেষ চ্যালেঞ্জময়। তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে সংঘাত, রাজনৈতিক সহিংসতা বৃদ্ধি এবং ‘মাইনাস-টু ফর্মুলা’ —দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তার—সব মিলিয়ে বিএনপিকে কোণঠাসা করে। দলীয় চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমান কারাবন্দি হন। তারেক রহমান ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হন। পরে পরিবার নিয়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। এরপর বিএনপিতে মাঠপর্যায়ে নেতৃত্বের শূন্যতা তৈরি হয়।
২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিলেও সরকার গঠন করতে ব্যর্থ হয়। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট বিপুল বিজয় অর্জন করে। বিএনপির সাংগঠনিক সক্ষমতা ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ে। ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করলেও ফলাফল কাঙ্ক্ষিত হয়নি।
২০ বছর বর্তমান বিএনপি
২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি দীর্ঘ ২০ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকার পর ভূমিধস জয় পায়। দলটির জয়ী আসন সংখ্যা ২০৯টি। এই বিজয় দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক প্রস্তুতি, কৌশলগত সিদ্ধান্ত, প্রতিপক্ষের দুর্বলতা এবং ভোটারের পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষার সম্মিলিত ফল।
এই ভূমিধস জয়ের নেপথ্যে ২০০৯–২০২৪ সময়কালে দলের নেতাকর্মীর ওপর মামলা, গ্রেপ্তার ও রাজনৈতিক চাপ বিএনপিকে “নির্যাতিত বিরোধী শক্তি” হিসেবে তুলে ধরতে সাহায্য করেছে। এছাড়া আওয়ামী লীগের ধারাবাহিক নিপীড়নে জনঅসন্তোষ এবং অর্থনৈতিক দুর্নীতি দেশবাসীকে বিএনপির দিকে ধাবিত করে। সঙ্গে যুক্ত হয় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান পদে আসীন হয়ে লন্ডনে বসে বিএনপি নেতৃত্ব দেওয়া তারেক রহমানের লড়াকু মানসিকতা। সব মিলিয়ে রাজনৈতিক প্রস্তুতি, জনমুখী কৌশল, প্রতিপক্ষের দুর্বলতা এবং ভোটারের পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষার ফল পেয়েছে বিএনপি।
আগামীর বাস্তবতা কী?
যে তারেক রহমানকে নির্বাসিত করতে শেখ হাসিনার ভূমিকা ছিল বলে প্রচার আছে। কিংবা পরবর্তীতে দেশে ফিরতে না দেওয়া, অন্তত ছয় ডজনের বেশি মামলায় আসামি করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার সব ঘটনাগুলোতে আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার ভূমিকা আছে বলে বিএনপি দাবি করে।
সেই তারেক রহমানের কাছেই হয়তো স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের আর্জি জানাতে হতে পারে শেখ হাসিনাকে। যেভাবে ১৯৮১ সালে তারেক রহমানের বাবা, তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কাছে আর্জি জানিয়ে অনুমতি নিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। প্রায় ৪৫ বছর পর সেই পুরনো ‘স্বদেশ প্রত্যাবর্তন অনুমতি’ কি শেখ হাসিনাকে আবার নিতে হবে?
তাও আবার সেই রাষ্ট্রপতির সন্তান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছ থেকে। যাকে ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে নিপীড়ন করেছিলেন এবং সুযোগ পেলেই ‘গালি’ দিতেন শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে ফিরতে এবং শেখ হাসিনাকে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করতে সেই তারেক রহমানের কাছে ধর্ণা দিতে হতে পারে।
তখনই হয়তো নতুন ইতিহাস রচিত হবে। যাকে নির্বাসিত রাখতে নানা কৌশল করেছিল আওয়ামী লীগ, এখন সেই আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনা নিজেদের নির্বাসনকাল কাটাতেই প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমানের শরণাপন্ন হবেন। সেই বাস্তবতা দেখতে হলে আরও কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে বাংলাদেশকে।
-পতাকানিউজ

