চিত্রনায়ক মোহাম্মদ শাহরিয়ার (ইমন) ওরফে সালমান শাহ হত্যা মামলায় খলনায়ক আশরাফুল হক ডনকে ৭ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা আগামী বৃহস্পতিবার ২৭ আগস্ট শুনানির দিন ধার্য করেছেন
সোমবার, ২৪ আগস্ট ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের রমনা মডেল থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা এসআই শাহ আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও আসামির উপস্থিতিতে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। এজন্য ডনকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তাকেও আদালতে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের ঢাকা মেট্রো দক্ষিণের পরিদর্শক মজিবুর রহমান গেল বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট এ রিমান্ড আবেদন করেন। পরে আদালত শুনানির তারিখ ধার্য করেন।
গত ৯ আগস্ট এই মামলায় ডনকে কারাগারে পাঠানো হয়। এর আগে ওইদিন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সকাল ৬ টার দিকে ইমিগ্রেশন পুলিশ ডনকে গ্রেপ্তার করে। তিনি ওমরাহ হজ্ব পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব যাচ্ছিলেন। খবর পেয়ে সিআইডির একটি টিম এসে ডনকে নিয়ে যায়। সিআইডি সালমান শাহ হত্যা মামলা তদন্ত করছে।
সালমান শাহ মৃত্যুর ২৯ বছর পর আদালতের নির্দেশে গত বছর ২১ অক্টোবর রমনা থানায় হত্যা মামলা হয়। মামলাটি করেন সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর। মামলার এজাহারে ১১ জনকে আসামি করা হয়। অজ্ঞাতনামা আসামিও করা হয় কয়েকজনকে।
মামলার আসামিরা হলেন- সালমান শাহর স্ত্রী সামিরা হক, সামিরা হকের মা লতিফা হক লুসি, আলোচিত বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, খলনায়ক আশরাফুল হক ডন, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, রুবি, আব্দুস সাত্তার, সাজু ও রিজভি আহমেদ ফারহাদ।
এর আগে, গত বছর ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক রমনা থানার ওসিকে সালমান শাহর ‘অস্বাভাবিক মৃত্যু’ মামলাকে হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণ করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

সালমান শাহর মৃত্যুর পর প্রায় ২৯ বছর যাবত রমনা থানার অপমৃত্যু মামলার তদন্ত হয়। পুলিশের সব সংস্থাই একের পর এক তদন্ত করে। প্রতিবারই সালমান শাহ আত্মহত্যা করেছেন বলে এসব তদন্তে উল্লেখ করা হয়। এক আদালত থেকে অন্য আদালতে ঘুরতে থাকে বাদী পক্ষ।
প্রসঙ্গত, রমনা থানায় মামলা হওয়ার পর গত বছর ২৭ অক্টোবর সালমান শাহর স্ত্রী সামিরা হক ও খলনায়ক আশরাফুল হক ওরফে ডনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত।
রিমান্ড আবেদনে যা বলা হয়েছে
তদন্ত কর্মকর্তা রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করেছেন, মামলার ঘটনা আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর, যেখানে ভিকটিম জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহ। ভিকটিমের মা মামলার ঘটনার পর থেকে অর্থাৎ ১৯৯৬ সাল থেকে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি করে আসছেন। নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকাসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সালমান শাহ’র ভক্তরা তৎপর রয়েছেন।
দ্বিতীয়ত, ডন অত্যন্ত ধূর্ত প্রকৃতির লোক। তাকে পুলিশ হেফাজতে এনে নিবিড়ভাবে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে মামলার ঘটনায় জড়িত অপরাপর সহযোগী আসামিদের অবস্থান নির্ণয় করে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে। মামলার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের জন্য ও নিবিড়ভাবে তদন্তের স্বার্থে পুলিশ রিমান্ডে এনে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
তৃতীয়ত, ডনের বিরুদ্ধে বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন কৌশলে, কী কারণে ও কার ইন্ধনে বিদেশে পালিয়ে যাচ্ছিলেন— এ সংক্রান্তে তথ্য উদঘাটন করা প্রয়োজন।
পতাকানিউজ/এএ/আরবি

