আল্লাহ্ তাআলা মানুষকে অগণিত নেয়ামত দান করেছেন, যার মধ্যে অন্যতম হলো খাবার ও পানীয়। প্রতিদিন আমরা না ভেবে খেয়ে ফেলি, কিন্তু একটু থেমে যদি ভাবা যায় আমাদের মুখে তোলা প্রতিটি লোকমা কত শ্রম, মেহনত ও আল্লাহ্র রহমতের ফল! তাই ইসলাম আমাদের শিক্ষায় খাওয়ার পর শুকরিয়া আদায় করা শুধু শিষ্টাচার নয়, এটি একটি ইবাদত।
‘শুকরিয়া’ বা কৃতজ্ঞতা মানে কেবল মুখে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলা নয় বরং হৃদয়ে উপলব্ধি করা যে এই খাবার আল্লাহ্র দান, আর এর বিনিময়ে আমি তাঁর অনুগত থাকব। ইসলাম শেখায় যে ব্যক্তি আল্লাহ্র দেওয়া রিজিককে কৃতজ্ঞতার সঙ্গে গ্রহণ করে, আল্লাহ্ তাকে আরও দান করেন।
কুরআনে আল্লাহ্ বলেন- ‘তোমরা যদি কৃতজ্ঞ হও, তবে অবশ্যই আমি তোমাদের আরও দান করব, আর যদি অকৃতজ্ঞ হও নিশ্চয়ই আমার শাস্তি কঠিন।’ (সূরা ইবরাহিম, আয়াত ৭)
এই আয়াত স্পষ্ট করে দেয়, শুকরিয়া আদায় করা শুধু আধ্যাত্মিক নয় বরং বাস্তব জীবনেরও উন্নতির পথ। কৃতজ্ঞ মানুষ আল্লাহ্র কাছে আরও নেয়ামত লাভ করে আর অকৃতজ্ঞরা ধীরে ধীরে বরকত হারায়।
খাবার শেষে নবীজীর (সা.) আমল
রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রতিটি কাজেই আল্লাহ্র প্রতি কৃতজ্ঞ থাকতেন, বিশেষ করে খাবারের পর। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে-
নবীজী (সা.) বলেছেন: ‘যে ব্যক্তি খাবার খেয়ে বলে ‘‘আলহামদুলিল্লাহিল্লাযি আতআমানী হাযা ওয়া রাযাকানীহি মিন গাইরি হাউলিম মিন্নী ওয়া লা কুওয়াহ’’, তার পূর্ববর্তী সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হয়।’ (তিরমিজি, হাদিস: ৩৪৫৮)
অর্থাৎ, যে ব্যক্তি খাওয়ার পর আন্তরিকভাবে আল্লাহর প্রশংসা করে, তার জীবনে ক্ষমা ও বরকত নেমে আসে। নবীজী (সা.) নিজেও প্রতিবার খাবার শেষে ‘আলহামদুলিল্লাহ বলতেন, আর মাঝে মাঝে বলতেন ‘আলহামদুলিল্লাহি আলা কুল্লি হাল’- অর্থাৎ ‘সব অবস্থায়ই আল্লাহর জন্য প্রশংসা।’
শুকরিয়া আদায়ে বরকত ও মানসিক শান্তি
খাবারের পর শুকরিয়া আদায় করা শুধু ধর্মীয় আমল নয়, এটি মানুষের মানসিক শান্তিরও উৎস। মনোবিজ্ঞানের দৃষ্টিতেও কৃতজ্ঞতা মানুষকে ইতিবাচক করে তোলে, অহংকার কমায় ও অন্তরে তৃপ্তি আনে। ইসলামও সেই মানসিক প্রশান্তির পথ শেখায় যা আল্লাহ্র প্রতি কৃতজ্ঞতা থেকে শুরু হয়।
নবীজী (সা.) বলেছেন- ‘যে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ নয়, সে মানুষের প্রতিও কৃতজ্ঞ হতে পারে না।’ (আবু দাউদ, হাদিস: ৪৮১১)
অর্থাৎ, শুকরিয়া মানুষকে বিনয়ী করে তোলে, আর বিনয়ই মানুষের চরিত্রকে সুন্দর করে।
আজকের ব্যস্ত জীবনে মানুষ খাবারকে প্রায়ই তুচ্ছ মনে করে। অথচ একবেলা খাবার পেতে দুনিয়ার কোটি কোটি মানুষ কষ্ট করছে। তাই মুসলমান হিসেবে আমাদের উচিত প্রতিবার খাওয়ার পর ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলা, যেন আমরা আল্লাহর রহমতের প্রতি সচেতন থাকি। এই একটি শব্দই আমাদের জীবনে আনতে পারে বরকত, মানসিক প্রশান্তি ও আত্মতৃপ্তি।
খাবার খাওয়া যেমন শরীরের জন্য প্রয়োজন তেমনি শুকরিয়া আদায় করা আত্মার প্রশান্তি। ইসলাম কৃতজ্ঞতাকে করেছে ঈমানের অংশ, তাই খাওয়ার পর ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলা শুধু একটি বাক্য নয় এটি এক সুন্দর অভ্যাস যা আমাদের করে তোলে বিনয়ী, তৃপ্ত ও আল্লাহ্র নিকট প্রিয় বান্দা।
পতাকানিউজ/এনএফএম

