বাংলাদেশ প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করে ফুল দেওয়ার জন্য ভক্তদের ভিড় লেগেই আছে। বৃহস্পতিবার সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার পর এই ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। করব জিয়ারত করতে বিপুল সংখ্যক মানুষ জড়ো হয়েছেন।
বুধবার বিকেলে তাকে দাফনের পর জিয়া উদ্যানের প্রবেশমুখ নিরাপত্তার কারণে বন্ধ রেখেছিল কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার দুপুরে গেট খুলে দেওয়া হয়। এরপর থেকে ভিড় লেগেছে কবর জিয়ারতে। এই সময় অনেক মানুষ কান্নায় ভেঙে পড়েনে। কেউ কবর জিয়ারত করে ফিরে যান। কেউ বা ফুল দিয়ে দেন।
কবর জিয়ারত করতে আসা ব্যক্তিদের একজন চট্টগ্রামের কবির আহমদ। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কবির আহমদ ঢাকায় এসেছেন অফিসের কাজে। আগের দিন বুধবার জানাজা পড়েছেন মানিক মিয়া এভিনিউতে। খালেদার লাশের গাড়িও তিনি ঠিক মতো দেখতে পাননি ভিড়ের কারণে। সেই কারণে বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম ফেরার আগে বিকেলে তিনি দ্বিতীয় দফা জিয়া উদ্যানে যান।
কবর জিয়ারতের পর তিনি বলেন, ‘গতকাল লাশবাহী গাড়িটিও ঠিক মতো দেখিনি মানুষের স্রোতের মধ্যে থাকায়। আজ চট্টগ্রাম ফেরার আগে ভাবলাম, পুনরায় যাই। কবর জিয়ারত করি। তাই ছুটে এসেছি। ভাগ্য ভালো, সকালে নাকি কেউ প্রবেশ করতে পারেনি। বিকেলে আমি এসেছি। জিয়ারত করতে পেরেছি।’
নিজকে বিএনপি কর্মী পরিচয় দিয়ে তিনি বলেন, ‘গ্রামে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। এই কারণে প্রয়াত নেত্রীর কবর জিয়ারত করতে এসেছি।’
কবির আহমদের অদূরে দাঁড়িয়ে থাকা এক নারী নিজের নাম জানালেন ফারজানা বেগম। বললেন, রাজশাহী সদর উপজেলায় তার বাড়ি। নিজকে অরাজনৈতিক নারী দাবি করে বললেন, ‘গতকাল বিপুল সংখ্যক মানুষের ঢল থেকে মনে হয়েছে, তিনি যোগ্য সম্মানটুকু পেয়েছেন। টিভি সেটে জানাজার নামাজ দেখেছি। আজ ভাবলাম, একবার কবরটা দেখে আসি। তাই আসলাম। খালেদা জিয়া আপসহীন ছিলেন বলেই বাংলাদেশের মানুষের এতো ভালোবাসা পেয়েছেন। এমন শ্রদ্ধাভরে জাতি অন্য কোনো জাতীয় নেতাকে বিদায় দিয়েছে কি না আমার জানা নেই।’
নানা শ্রেণি পেশার মানুষের পাশাপাশি বিএনপি নেতা-কর্মীরাও দলীয় নেত্রীর কবর জিয়ারত করতে আসার তথ্য জানিয়েছে বিএনপির মিডিয়া সেল। সেখানে কিছুও প্রকাশ করা হয়েছে। সকালে কবর জিয়ারত করেন বিএনপি সরকারের সময়ের প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর। এমন অনেক নেতা যাচ্চেন জিয়ারত করতে।
বিএনপি নেতা-র্কমীদের ভাষ্য অনুযায়ী, আপসহীন নেত্রী খালেদা জিয়া রোগে কষ্ট পেয়েছেন। তাকে সুচিকিৎসা নিতে আওয়ামী লীগ সরকার আমলে বাধা দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে দেওয়া হয়নি। শেষ জীবনে তিনি সন্তান, পুত্রবধু কিংবা নাতিকে নিয়ে কাটাতে পারেননি। দীর্ঘ সময় কারাগারে ছিলেন।
কিন্তু জীবনের শেষ যাত্রায় তিনি যে সম্মানটুকু পেয়েছেন তা এর আগে রাষ্ট্রনায়ক জিয়াউর রহমানই শুধু পেয়েছিলেন। জিয়াউর রহমানের জানাজার নামাজকে এতোদিন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জানাজার নামাজ হিসেবে উল্লেখ করা হতো। এখন খালেদা জিয়ার জানাজার নামাজ আরো বড় হয়েছে। সাধারণ মানুষের ভালোবাসা, শ্রদ্ধায় তিনি প্রকৃত সম্মানটুকু পেয়েছেন। এটাই একজন রাষ্ট্রনায়কের প্রাপ্য।
-পতাকানিউজ/এসএমআর

