সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন আজ। ১৯৪৫ সালের এ দিনে তিনি দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করেন। এ উপলক্ষ্যে সারা দেশে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল করবে বিএনপি।
শুক্রবার, ১৪ আগস্ট সকালে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।
এতে বলা হয়, সারা দেশে দলীয় কার্যালয়ে অথবা মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল হবে। আর ঢাকায় বেলা ১১টায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ কর্মসূচি পালন করা হবে।
এ কর্মসূচি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।
কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকাল ১১টায় রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। এতে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ সিনিয়র নেতারা উপস্থিত থাকবেন।
দোয়া-মাহফিলে মরহুমার আত্মার মাগফিরাত কামনার পাশাপাশি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মার শান্তি ও আহতদের সুস্থতা কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হবে।
এছাড়া বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিভিন্ন সহযোগী সংগঠন পৃথকভাবে রক্তদান কর্মসূচি, এতিম ও দুস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ এবং স্মরণসভা আয়োজন করেছে।
খালেদা জিয়ার পারিবারিক নাম খালেদা খানম, ডাকনাম পুতুল। তার বাবা ইস্কান্দার মজুমদারের বাড়ি ফেনীতে হলেও তিনি জলপাইগুড়িতে বোনের বাসায় থেকে পড়ালেখা করেন। সেখানে চা ব্যবসাও করেন তিনি। পরে পরিবার নিয়ে দিনাজপুর শহরে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। সেখানকার একটি মিশনারি স্কুল ও পরে দিনাজপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ালেখা করেন খালেদা জিয়া।
১৯৬০ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন জিয়াউর রহমানের সঙ্গে খালেদার বিয়ে হয়। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য ভূমিকা রাখেন জিয়াউর রহমান। তখন তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মেজর ছিলেন। তিনি চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে ২৭ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। ওই ঘোষণা শুনে বাঙালি যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে।
স্বাধীনতার পর ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর বিএনপি নামে একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেন জিয়াউর রহমান। সে সময় তিনি রাষ্ট্রপতি ছিলেন। ১৯৮১ সালে চট্টগ্রামে এক ব্যর্থ সেনা অভু্যত্থানে জিয়াউর রহমান নিহত হন। এরপর বিএনপির হাল ধরেন তার স্ত্রী খালেদা জিয়া।
১৯৮৩ সালে তার নেতৃত্বে বিএনপি সাতদলীয় জোট গঠন করে এরশাদবিরোধী আন্দোলন শুরু করে। সেই আন্দোলনে অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও জোট ছিল। তারা এরশাদ সরকারের সঙ্গে কখনো কখনো সমঝোতায় গেলেও খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন জোট সমঝোতায় যায়নি। এ কারণেই তিনি আপসহীন নেত্রী উপাধি পান।
১৯৯১ সালে তিনি বাংলাদেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। পরে তিন আরও দুই দফায় প্রধানমন্ত্রী হন। ওয়ান-ইলেভেনের পর ফখরুদ্দীন-মউনউদ্দিন সরকারের আমলে তিনি কারাবন্দি হন। পরে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতির অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করা হয়। মিথ্যা মামলায় কারাদণ্ড দেওয়া হয় তাকে।
নানা শারীরিক জটিলতা নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৩০ ডিসেম্বর খালেদা জিয়া মারা যান। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি বিএনপির চেয়ারপারসন ছিলেন। ক্ষমতাসীন দলটির নেতৃত্বে এখন আছেন তার জ্যেষ্ঠ ছেলে তারেক রহমান, যিনি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে সরকারপ্রধানের দায়িত্ব পালন করছেন।
পতাকানিউজ/আরবি

