জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ জানিয়েছেন, ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা দেশ না ছাড়লে তিনি হয়তো এখন মাটির নিচে কিংবা আয়নাঘরে থাকতেন। “গণঅভ্যুত্থান সফল হয়েছে বলেই আমি আজ আপনাদের সামনে এসে কথা বলতে পারছি”—এমনটাই বলেন তিনি।
শুক্রবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে হাতিয়ার চেয়ারম্যান ঘাট এলাকায় নদীভাঙন প্রতিরোধে জিওব্যাগ ডাম্পিং কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন শেষে আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তিনি এ বক্তব্য দেন।
মাসউদ বলেন, ‘আমি আপনাদের সন্তান। আমি কখনো ভোট চাইতে আসব না, কিংবা বলব না আমাকে ভোট দিন। আপনারা যদি আমার চেয়ে যোগ্য কাউকে প্রার্থী হিসেবে পান, তবে তাকেই ভোট দিয়ে জয়ী করুন, এতে আমার কোনো আপত্তি নেই।’
তিনি জানান, তাঁর একমাত্র ইচ্ছা হাতিয়া দ্বীপের উন্নয়ন। ‘যিনি হাতিয়ার উন্নতি করতে পারবেন, তাকেই আপনাদের সমর্থন দেওয়া উচিত’—বলেন তিনি।
সমাবেশে উপস্থিতদের উদ্দেশে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনারা আমার কাছে ওয়াদা করুন, নিজেদের মধ্যে কেউ হানাহানি বা মারামারি করবেন না। বিএনপি-জামায়াত কিংবা এনসিপি—যে দলেরই হোন না কেন, আমরা যদি নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে জড়াই, অরাজকতা তৈরি করি, তাহলে সারাদেশের মানুষ আমাদের নেতিবাচকভাবে দেখবে।’
হাতিয়ার উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে মাসউদ বলেন, ‘আমি সরকারের কোনো মন্ত্রী বা উপদেষ্টা নই, বিশেষ কোনো ক্ষমতাও আমার হাতে নেই। আপনারা যেমন সুখ-দুঃখের কথা আমার সঙ্গে শেয়ার করেন, আমিও সেসব সরকারের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের জানাই। তাদের অনুরোধ করি আপনাদের জন্য প্রকল্প আনতে।’
নিজের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমার নিজের চাচা-খালারাও বহুবার নদীভাঙনে সব হারিয়েছেন। নদীভাঙনের কষ্ট আমি বুঝি। এ মাসের শেষ দিকে জাপান থেকে একটি টিম হাতিয়ায় বিনিয়োগ সম্ভাবনা যাচাইয়ে আসবে। সুযোগ পেলে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে হাতিয়া দ্বীপ সেন্টমার্টিন থেকেও সুন্দর হবে।’
সমাবেশে জাতীয় নাগরিক পার্টির নোয়াখালী জেলা সংগঠক কাজী তানভীর, ইয়াছিন আরাফাত, মেহেদী হাসান সীমান্ত, হাতিয়া উপজেলার প্রধান সমন্বয়কারী সামছল তিব্রিজ, ইউসুফ রেজাসহ দলীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
পতাকানিউজ/এনটি

