দীর্ঘ দিনের জনদাবি, অংশীজনের পরামর্শ এবং জুলাই আন্দোলনের রক্তক্ষয়ী অভিজ্ঞতার আলোকে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক পুলিশ ব্যবস্থা গঠনের অন্যতম পদক্ষেপ হিসেবে যে স্বাধীন পুলিশ কমিশনের সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছিল, তা অন্তর্বর্তী সরকার প্রণীত পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫ কার্যত ধ্বংস করেছে বলে মন্তব্য করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
টিআইবি নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এই অধ্যাদেশটি পুলিশের পেশাদারিত্ব বা জবাবদিহি নিশ্চিত করার পরিবর্তে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রশাসনিক আমলাতন্ত্রের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করবে। ফলে ক্ষমতার অপব্যবহার, মানবাধিকার লঙ্ঘন, দুর্নীতি ও অপরাধের জন্য দায়ভার নিয়ন্ত্রণের সুযোগ আরও বাড়বে।
তিনি আরও জানান, প্রস্তাবিত কমিশনে সরকারের প্রভাব থেকে কার্যকর স্বাধীনতা নেই। কমিশনের নেতৃত্বে বাধ্যতামূলকভাবে অবসরপ্রাপ্ত আমলা ও পুলিশ কর্মকর্তাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একজন অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাকে সদস্য-সচিব হিসেবে নিশ্চিত করা হয়েছে, যা কমিশনের নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করে। বিশ্বের অন্য কোনো দেশের কমিশনে এমন শর্ত নেই।
ড. জামান আরও বলেন, অধ্যাদেশে কমিশনের কার্যক্রম ও সিদ্ধান্তগ্রহণ প্রক্রিয়া মূলত আমলাতন্ত্র ও পুলিশের প্রভাবাধীন হবে। এতে কমিশন স্বাধীনভাবে অভিযোগ নিষ্পত্তি করতে পারবে না। প্রস্তাবিত নাগরিক অভিযোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি এবং পুলিশ অভিযোগ নিষ্পত্তি কমিটিও কমিশনের তিনজন সদস্য দ্বারা গঠিত হবে, যা স্বার্থসংঘাত সৃষ্টি করবে।
তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, অধ্যাদেশের ১৩ নম্বর অনুচ্ছেদে ‘জননিরাপত্তা ও মানবাধিকার’ এর ভারসাম্য উল্লেখ করা হলেও, জননিরাপত্তার সংজ্ঞা স্পষ্ট না থাকায় বাস্তবে এটি মানবাধিকার লঙ্ঘনের বৈধতার সুযোগ হিসেবে ব্যবহার হতে পারে। এছাড়া ২৩, ২৪ ও ২৫ নম্বর অনুচ্ছেদে আর্থিক স্বাধীনতার অভাব এবং প্রশাসনিকভাবে সরকারের ওপর নির্ভরতা থাকায় কমিশন কার্যত সরকারের অধীনস্থ দপ্তরে পরিণত হবে।
টিআইবি সরকারের কাছে পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫ সংশোধনের আহবান জানিয়েছে, যাতে কমিশন পুরোপুরি স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে পারে এবং জনগণের আশা অনুযায়ী পুলিশ সংস্কারের বাস্তব অগ্রগতি সম্ভব হয়।
পতাকানিউজ/এআই

