অন্ধকার রাতে একঝাঁক তারা
জেগে থাকে নিঃশব্দ সভায়,
জ্যোৎস্নার অন্তরালে আলোচনায় মগ্ন—
তাদের আকাশে নেই কোনো রাজনৈতিক সীমারেখা।
তাদের অধিকারের জন্য লাগে না মিছিল,
স্বাধীনতার নামে দিতে হয় না জীবন;
তবুও কেন নির্যাতিত এন্ড্রোমিডার দিকে
অসহায়ের মতো তাকিয়ে থাকে বন্দিনী ক্যাসিওপিয়া!
কার স্বাধীনতার জন্য অস্ত্র তুলে নেয় কালপুরুষ?
এই ক্লান্ত পৃথিবীর জন্ম থেকেই শুধু যুদ্ধ।
তারা বলে— স্বাধীনতার মানে জানতে হয় রক্তে,
তাদের চোখে দেশ মানে একখণ্ড পতাকা,
সীমানাহীন পৃথিবীটাই আজ বহুধা বিভক্ত
স্বাধীনতার শৃঙ্খলে।
তাদের কাছে গণতন্ত্র মানে— হাজার হাজার কয়েদখানা।
আমি কিছুই বুঝি না।
স্বাধীনতা মানে কী, গণতন্ত্রই বা কার জন্য—
আমি জানি না, জানতেও চাই না।
আমি শুধু দেখি—
মায়ের শাড়িটা বহুদিন ছেঁড়া,
হাতের বালাটা ভাঙা,
চালের কৌটোয় নীরবতা জমে থাকে,
আর বাবার দীর্ঘশ্বাস বাজে মধ্যরাতে
একটি শব্দহীন হাহাকারের মতো।
ওরা মত্ত থাকে মারণাস্ত্রের প্রতিযোগিতায়,
কে কার চাইতে বড় যোদ্ধা— তা নিয়ে তর্ক চলে সারাদিন।
শহীদ স্মৃতিস্তম্ভের ভাষণ নিয়ে গায়ে পড়ে বিতণ্ডা।
আর আমি ভাবি—
আজ রাতে হাঁড়িতে চাল উঠল কি না।
কেউ পতাকা হাতে মিছিল করে,
কেউ মাথায় করে নিয়ে যায় মানচিত্র—
ওসব দিয়ে আমি কি করব?
সদ্য গরম ভাতের ধোঁয়ার গন্ধ আমার ভীষণ প্রিয়।
পতাকানিউজ/কেএস

