ডায়াবেটিস বা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা আজকের যুগে একটি বড় চ্যালেঞ্জ। প্রতিদিনের খাবারের ধরন, পরিমাণ ও রান্নার প্রক্রিয়া সবকিছুই প্রভাব ফেলে রক্তে গ্লুকোজের ওঠানামায়। সাধারণত ভাত আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যের মূল অংশ, কিন্তু ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য এটি সবসময়ই চিন্তার বিষয়। অনেকের মনে প্রশ্ন থাকে গরম ভাত ভালো, না ঠান্ডা ভাত? বিজ্ঞান বলছে, এই দুই অবস্থার ভাতের গঠন এবং শরীরে তার প্রভাব এক নয়।
গরম ভাত
গরম ভাত সদ্য রান্না করা অবস্থায় তুলনামূলকভাবে নরম ও সহজপাচ্য। তবে এতে থাকা স্টার্চ (কার্বোহাইড্রেট) সহজে গ্লুকোজে পরিণত হয়। ফলে খাওয়ার পর খুব দ্রুত রক্তে চিনির মাত্রা বেড়ে যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সদ্য রান্না করা গরম ভাতের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (GI) অনেক বেশি। অর্থাৎ, এটি দ্রুত রক্তে গ্লুকোজ বাড়ায়। তাই যাদের টাইপ-২ ডায়াবেটিস আছে তাদের জন্য নিয়মিত গরম ভাত খাওয়া বিপজ্জনক হতে পারে।

ঠান্ডা ভাত
ভাত ঠান্ডা হলে তার ভেতরের স্টার্চের গঠন পরিবর্তন হয় এবং তৈরি হয় রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ যা শরীর সহজে ভাঙতে পারে না। এটি হজমে ধীরে কাজ করে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়তে দেয় না।
গবেষণায় দেখা গেছে, ঠান্ডা ভাতে গ্লাইসেমিক ইনডেক্স গরম ভাতের তুলনায় প্রায় ৩০-৪০% পর্যন্ত কমে যায়। অর্থাৎ, ঠান্ডা ভাত খেলে শরীর ধীরে ধীরে গ্লুকোজ শোষণ করে, ফলে ইনসুলিনের ওপর চাপও কম পড়ে।

কীভাবে ঠান্ডা ভাত খাওয়া নিরাপদ
ঠান্ডা ভাত খাওয়ার আগে একবার হালকা গরম করে নিলে সেটি আরও নিরাপদ হয়, তবে অতিরিক্ত গরম করা উচিত নয়, নাহলে রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ আবার ভেঙে যায়। এছাড়া ঠান্ডা ভাতের সঙ্গে প্রোটিন ও ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার যেমন-ডাল, শাকসবজি, মাছ বা ডিম খেলে তা গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে আরও সহায়ক হয়।
সাধারণভাবে বলা যায়, একদিন আগে রান্না করা ভাত ফ্রিজে রেখে পরদিন হালকা গরম করে খাওয়া ডায়াবেটিক রোগীর জন্য তুলনামূলক নিরাপদ একটি উপায়।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ শুধু খাবারের ধরন নয়, তার পরিমাণ ও সময়ের ওপরও নির্ভর করে। এক বেলার খাবারে অতিরিক্ত ভাত না খেয়ে কিছুটা কমিয়ে সবজি, সালাদ বা ডাল বেশি রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ। পাশাপাশি নিয়মিত ব্যায়াম ও পর্যাপ্ত পানি পান শরীরে ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করে।

ঠান্ডা ভাত ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য তুলনামূলকভাবে ভালো বিকল্প। কারণ এতে রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ থাকার কারণে রক্তে চিনির মাত্রা ধীরে বাড়ে এবং শরীর দীর্ঘক্ষণ শক্তি ধরে রাখতে পারে। তবে তা যেন সঠিক পরিমাণে ও ভারসাম্যপূর্ণ খাদ্যতালিকার অংশ হিসেবেই খাওয়া হয়, এই বিষয়টি মনে রাখা জরুরি।
পতাকানিউজ/এনএফএম

