ইসরায়েল ও হামাস গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রথম পর্যায় বাস্তবায়নে সম্মত হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘ইসরায়েল ও হামাস উভয়ই আমাদের শান্তি পরিকল্পনার প্রথম পর্যায়ে স্বাক্ষর করেছে। এর অর্থ হলো খুব শিগগিরই সব জিম্মিদের মুক্তি দেওয়া হবে এবং ইসরায়েল নিজেদের সেনাদের নির্ধারিত একটি লাইনে সরিয়ে আনবে।’
এদিকে যুদ্ধবিরতি আলোচনার প্রধান মধ্যস্থতাকারী কাতারও বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনার প্রথম ধাপের ‘সমস্ত শর্ত ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া’ নিয়ে সমঝোতা হয়েছে।
এদিকে যুদ্ধবিরতি চুক্তির খবরে আজ, বৃহস্পতিবার গাজার তরুণরা ধ্বংস হয়ে যাওয়া রাস্তায় নেমে স্লোগান দিয়ে নেচে উদযাপন করেছে।
অপরদিকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এই চুক্তিকে ‘ইসরায়েলের জন্য একটি মহান দিন’ বলে অভিহিত করেছেন। এই চুক্তি অনুমোদনের জন্য তার সরকারের একটি বৈঠক আহ্বান করেছেন। হামাসও এ চুক্তি স্বাক্ষরের কথা নিশ্চিত করেছে।
এক বিবৃতিতে হামাস বলেছে, তারা এমন এক ‘চুক্তি সম্পন্ন করেছে, যাতে গাজায় যুদ্ধের অবসান, দখলদার বাহিনীর প্রত্যাহার, মানবিক সহায়তা প্রবেশ এবং বন্দি বিনিময়ে’র বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ধারণা করা হচ্ছে, চুক্তিতে হামাসকে জীবিত ও মৃত প্রায় ৫০ জন জিম্মিকে মুক্তি দেওয়ার এবং ইসরাইলকে প্রায় ২০০০ ফিলিস্তিনি বন্দী ও আটক ব্যক্তিকে মুক্তি দেয়ার কথা বলা হয়েছে।
যুদ্ধে ইসরায়েল অন্তত ৬৭ হাজার ১৬০ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে। ইসরায়েলি হামলায় আহত হয়েছেন এক লাখ ৬৯ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও অসংখ্য মরদেহ চাপা পড়ে আছে।
জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, গাজা পুনর্গঠনের জন্য ৫০ বিলিয়ন ডলারের বেশি খরচ হবে। আর পুরো উপত্যকাকে পুনরায় বাসযোগ্য করতে কমপক্ষে ১৫ বছর সময় লাগতে পারে।
এদিকে শান্তি চুক্তির জন্য শুভেচ্ছা জানিয়ে ও চুক্তির শর্ত মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্ব নেতারা।
জাতিসংঘের সেক্রেটারি জেনারেল অ্যান্তেনিও গুতেরেস সব পক্ষকে এ চুক্তির সব শর্ত মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘এই দুর্ভোগের অবসান হওয়া উচিত।’
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ের স্টারমার এক বিবৃতিতে, ‘এটি একটি গভীর স্বস্তিকর মুহূর্ত’ বলে উল্লেখ করেছেন।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘দুবছরেরও বেশি সময় ধরে সংঘাত, জিম্মি এবং বেসামরিক মানুষের প্রাণহানির পর, চুক্তিটি শান্তির দিকে একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ। আমরা সকল পক্ষকে পরিকল্পনার শর্ত মেনে চলার আহ্বান জানাচ্ছি।’
প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ভোরে দক্ষিণ ইসরাইলে ফিলিস্তিনের স্বাথীনতাকামী হামাসের আকস্মিক আক্রমণের মাধ্যমে যুদ্ধ শুরু হয়েছিল। হামলায় প্রায় ১ হাজার ২১৯ জন নিহত হয়। যাদের বেশিরভাগই ইসরাইলি বেসামরিক নাগরিক। তাদের অনেকেই সপ্তাহান্তে একটি সঙ্গীত উৎসবে যোগ দিয়েছিলেন। ১৯৪৮ সালে দেশটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে এটি ছিল ইসরাইলের ওপর একদিনের সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা। যুদ্ধের সময় গাজার ২০ লাখের বেশি জনসংখ্যা বারবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে। বেশিরভাগ বাসিন্দা এখন মিশরের সীমান্তের কাছে ভূখণ্ডের দক্ষিণ অংশে তাঁবুতে আশ্রয় নিয়েছে।
পতাকানিউজ/আরবি

