বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিদায়ী ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সাফিকুর রহমানের বাসায় শিশু গৃহকর্মী মোহনাকে নির্যাতন করা হতো। বাসার আরেক গৃহকর্মী সুফিয়া বেগম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এ কথা বলেছেন।
শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবেরুনী মীরের খাস কামরায় জবানবন্দি দেন সুফিয়া বেগম। তবে বিমানের সাবেক এম ডি সাফিকুর রহমান পুলিশের কাছে ঘটনার দায় স্বীকার করলেও আদালতে স্বীকার করেননি।
শাফিকুর রহমান ও সুফিয়া বেগমকে রিমান্ডে শেষে আদালতে হাজির করে উত্তরা থানা পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রুবেল মিয়া দুজনের স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করার আবেদন করেন। তাদেরকে বিচারকের খাস কামরায় নেয়া হয়। সেখানে শাফিকুর রহমান আদালতকে বলেন, ‘তিনি জবানবন্দি দেবেন না।’ পরে আদালত গৃহকর্মী সুফিয়া বেগমের জবানবন্দি গ্রহণ করেন। পরে দুজনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
গত ১০ ফেব্রুয়ারি সাফিকুর রহমানকে পাঁচ দিন ও সুফিয়া বেগমকে ছয় দিনের রিমান্ডে নেয়ার নির্দেশ দেন আদালত।
তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন, পুলিশ রিমান্ডে নিয়ে দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে দুজনই গৃহকর্মী মোহনাকে নির্যাতনের কথা স্বীকার করেন। তারা স্বেচ্ছায় বিজ্ঞ আদালতে জবানবন্দি দেয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
১১ বছরের শিশু গৃহকর্মী মোহনার বাবা গোলাম মোস্তফা গত ১ ফেব্রুয়ারি উত্তরা পশ্চিম থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। মামালায় সাফিকুর রহমান এবং তার স্ত্রী বীথি, বাসার দুই গৃহকর্মী রুপালী খাতুন ও সুফিয়া বেগমকে আসামি করা হয়। মামলার পর গত ২ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে তিনটায় উত্তরা ৯ নম্বর সেক্টরের বাসা থেকে আসামিদের গ্রেপ্তার করে উত্তরা পশ্চিম থানা–পুলিশ। পরে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সাফিকুর, তার স্ত্রী বীথিসহ চারজনকে কারাগারে পাঠানো হয়।
পতাকানিউজ/পিএম/আরবি

