নিজ বাসার শিশু গৃহকর্মী মোহনাকে নির্যাতনের ঘটনায় করা মামলায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সাফিকুর রহমানকে জামিন দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ-৩-এর বিচারক মঈন উদ্দিন চৌধুরীর আদালত আসামিকে ৫ হাজার টাকা মুচলেকায় জামিন দেন।
আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. জহিরুল ইসলাম (কাইয়ুম) এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
শাফিকুর রহমানের আইনজীবী জামিনের আবেদনের শুনানি শেষে আদালত জামিন দেন। আসামির বয়স ও শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় এ জামিন দেয়া হয় বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।
১১ বছরের শিশু গৃহকর্মী মোহনার বাবা হোটেল কর্মচারী গোলাম মোস্তফা গত ১ ফেব্রুয়ারি উত্তরা পশ্চিম থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। মামালায় সাফিকুর রহমান এবং তার স্ত্রী বীথি, বাসার দুই গৃহকর্মী রুপালী খাতুন ও সুফিয়া বেগমকে আসামি করা হয়। মামলা দায়েরের পর গত ২ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে তিনটার দিকে উত্তরা ৯ নম্বর সেক্টরের বাসা থেকে আসামিদের গ্রেপ্তার করে উত্তরা পশ্চিম থানা–পুলিশ। পরে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সাফিকুর, তার স্ত্রী বীথিসহ চারজনকে কারাগারে পাঠানো হয়।
পরে চারজনকেই বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে নেওয়া হয়। এর মধ্যে সাফিকুরের স্ত্রী বৃদ্ধি ও অন্য দুই গৃহকর্মী আদালতে স্বীকারোক্তি মূলক জবান মধ্যে দিয়ে শিশুকে নির্যাতনের দায় স্বীকার করেন। সাফিকুর পুলিশের কাছে দায়ে স্বীকার করলেও আদালতে জবানবন্দি দিতে অস্বীকার করেন। সেই থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
সাফিকুরের জামিন মঞ্জুর করা হলেও অন্য তিনজন এখনও কারাগারে রয়েছেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, উত্তরা ৯ নম্বর সেক্টরে সাফিকুর রহমানের বাসা। ওই বাসার নিরাপত্তাকর্মী জাহাঙ্গীর শিশুর দেখাশোনার জন্য অল্প বয়সী মেয়ে খুঁজছিলেন। পরে গোলাম মোস্তফার সঙ্গে তার দেখা হয়। মেয়ের বিয়েসহ যাবতীয় খরচ বহনের প্রতিশ্রুতি পেয়ে মোস্তফা গত বছরের জুনে তার মেয়েকে ওই বাসায় কাজে পাঠান। সর্বশেষ গত বছরের ২ নভেম্বর ওই বাসায় গিয়ে মোহনাকে দেখে আসেন তিনি। এরপর আর তাকে পরিবারের কারো সঙ্গে দেখা করতে দেয়া হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে মামলায়।
আরও বলা হয়, ৩১ জানুয়ারি বীথি ফোন করে মোস্তফাকে জানান, মোহনা অসুস্থ। তাকে যেন নিয়ে যাওয়া হয়। পরে মোহনাকে আনতে যান গোলাম মোস্তফা। সন্ধ্যা ৭টার দিকে গোলাম মোস্তফার কাছে মোহনাকে বুঝিয়ে দেন বীথি।
মোস্তফা মামলায় বলেছেন, তখনই তিনি মেয়ের দুই হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম দেখতে পান। তার মেয়ে ভালোভাবে কথাও বলতে পারছিল না। কারণ জিজ্ঞাসা করলে বিমানের এমডি র স্ত্রী বীথি এর সদুত্তর দিতে পারেননি। পরে মোহনাকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান মোস্তফা। মোহনা তাকে জানায়, ওই বাসায় বিভিন্ন সময়ে তার ওপর নির্যাতন করা হয়েছে। তাকে মারধর করার পাশাপাশি খুন্তি গরম করে শরীরে ছ্যাঁকাও দেয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, এ ঘটনার পর বিমানের সাবেক এমডি সাফিকুর রহমানকে তার দায়িত্ব থেকে অপসারণ করা হয়।
পতাকানিউজ/এএ/আরবি

