জামায়াতে ইসলামী সরকার গঠন করতে পারলে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে ইসলামী ব্যাংক থেকে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা–কর্মচারীদের বকেয়া বেতন–ভাতাসহ পুনরায় চাকরিতে ফিরিয়ে দেয়া হবে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনের প্রার্থী ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াতের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মাওলানা জহিরুল ইসলাম।
শুক্রবার, ২৯ নভেম্বর বিকেলে বাঁশখালীর শীলকূপ ইউনিয়নে চাকরিচ্যুত ইসলামী ব্যাংক কর্মকর্তাদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। শনিবার বিকেলে সভার ২ মিনিট ৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিওতে মাওলানা জহিরুল ইসলামকে ইসলামী ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তাদের কঠোর সমালোচনা করতে দেখা যায়। তিনি অভিযোগ করেন, ‘কিছু ব্যাংকার ইসলামী ব্যাংককে কলঙ্কিত করার জন্য ষড়যন্ত্র করছেন।’ চাকরিচ্যুতদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আপনার ছেলে, মেয়ে বা ভাগনে যদি চাকরি হারাত, তাহলে বুঝতে পারতেন। অন্যের রিজিকে আঘাত করলে তার বিচার আল্লাহ করবেন।’
চাকরিচ্যুতদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘যাঁরা গোপনে বা প্রকাশ্যে কারও রিজিক বা ব্যক্তিগত সম্মানে আঘাত করে চাকরিচ্যুতি ঘটিয়েছেন, তাঁদের বিচার আল্লাহ করবেন।’
তবে জানা গেছে এদিন ওই এলাকার ব্যাকের চাকরিচ্যুত সকল কর্মকর্তাকে নিয়ে সভা করার কথা থাকলেও সেখানে উপস্থিত ছিলেন মাত্র ৭-১০ জন ব্যাংক কর্মকর্তা। আর কেউই আসেন নি।
ইসলামী ব্যাংকের চাকরিচ্যুত মনছুর আলম নামে একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাদের চাকরি যাওয়ার পেছনে জামায়াত সরাসরি জড়িত। যারা আমাদের ক্ষতি করেছে তাদের সাথে আমরা কিভাবে বসবো। বিষয়টি গাছের গোড়া কেটে আগায় জল দেয়ার মতো। যারা গিয়েছে তারা আমাদের সাথে কখনো ছিলো না।’
মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন বাঁশখালী উপজেলা জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক জিএম সাইফুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদের সদস্য শহিদুল মোস্তাফা, দক্ষিণ জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মোক্তার হোছাইন সিকদার এবং উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আরিফুল্লাহ।
পতাকানিউজ/এএস/কেএস

