বিশ্ব রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে এখন একটি শব্দ গ্যাস রুট। আর এই রুট নিয়েই চলছে নীরব কিন্তু তীব্র ক্ষমতার লড়াই। রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ কেবল ভূখণ্ড দখলের যুদ্ধ নয়, এর আড়ালে রয়েছে ইউরোপের জ্বালানি সরবরাহ নিয়ন্ত্রণের খেলা। ইউরোপের প্রায় ৪০ শতাংশ গ্যাসই বহু বছর ধরে এসেছে রাশিয়ার পাইপলাইনের মাধ্যমে। এই গ্যাস শুধু ঘর গরম রাখার শক্তি নয়এটি ইউরোপের শিল্প, অর্থনীতি এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ভিত্তি। কিন্তু ইউক্রেন যুদ্ধের পর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এবং পাল্টা সিদ্ধান্তে রাশিয়া গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে দিলে ইউরোপ এক ধরনের জ্বালানি সংকটে পড়ে যায়। গ্যাসের দাম দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পায়, শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হয়, এবং শীতের সময় ঘর গরম রাখাসহ সাধারণ মানুষের জীবনযাপনও চাপে পড়ে।
এই সংকটের মধ্যেই শুরু হয় নতুন গ্যাস রুটের খোঁজ। ইউরোপ এখন চায় রাশিয়ার গ্যাসের ওপর নির্ভরতা কমাতে। তাই নজর গেছে আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের দিকে। আফ্রিকার আলজেরিয়া থেকে ইতালি, নাইজেরিয়া থেকে মরক্কো হয়ে ইউরোপ পর্যন্ত নতুন পাইপলাইন প্রকল্প দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ‘নাইজেরিয়া–মরক্কো গ্যাস পাইপলাইন’ প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে এটি হবে বিশ্বের অন্যতম দীর্ঘ গ্যাস রুট, যা পশ্চিম আফ্রিকার উপকূল ধরে ইউরোপ পর্যন্ত পৌঁছাবে। এদিকে উত্তর আফ্রিকার আলজেরিয়া ইতোমধ্যে স্পেন এবং ইতালির সঙ্গে গ্যাস সরবরাহ চুক্তি আরও বড় করেছে। অর্থাৎ ইউরোপ এখন আফ্রিকার সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক জোরদার করছে রাশিয়ার শূন্যস্থান পূরণ করার জন্য।

