কক্সবাজারে উখিয়ার সেহেরীর সময় ঘরের ভেতর থেকে এক গৃহবধূর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় নিহত গৃহবধূর শ্বশুর ও বাপের বাড়ির লোকজনের পরস্পর বিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে।
মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ভোররাতে উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের মোছারখোলা এলাকা একটি ঘর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত জাজিদা আক্তার (২৫) পালংখালী ইউনিয়নের মোছারখোলা এলাকার নুরুল বশরের ছেলে মো. শফিকুল ইসলামের স্ত্রী।
নিহত গৃহবধূর শ্বশুর নুরুল বশর বলেন, ‘ছেলে শফিকুল ইসলাম পেশায় দিনমজুর। রোজা শুরুর ২/৩ দিন পর থেকে কাজের জন্য বান্দরবান যান। ছেলে তার বাড়ি থেকে সামান্য দূরে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে আলাদা থাকে। জাজিদা আক্তারের শাশুড়ি রোজা শুরুর আগে থেকে অসুস্থ ছিলেন। তাই রমজানের শুরু থেকে ছেলের বউ তাদের জন্য সেহেরি ও ইফতার তৈরি করে দিতেন। প্রতিদিন ভোররাতে সেহেরি তৈরি শেষ হলে খাওয়ার জন্য ঘুম থেকে জাগাতেন’
তিনি বলেন, ‘আজ ভোররাতে সেহেরির শেষ সময়ের ১০/২০ মিনিট আগেও ডেকে না দেয়ায় তিনি খোঁজ নিতে যান। এসময় ঘরের বাহিরের দরজা খোলা দেখতে পান। পরে অন্ধকার ঘরের ভেতরে আলো জ্বালিয়ে জাজিদা আক্তার রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে আছে।’
এ বিষয়ে নিহতের বাবা নুরুল ইসলাম বলেন, ‘জাজিদার সঙ্গে শফিকুলের সামাজিকভাবে বিয়ে হয়েছিল। জুয়া খেলাসহ নানা অনৈতিক কাজে সে লিপ্ত ছিল। ঠিক মত স্ত্রী-সন্তানদের ভরনপোষন দিত না। এ নিয়ে বিয়ের কয়েক বছর না যেতেই তার মেয়ের সঙ্গে জামাতার মধ্যে কলহ শুরু হয়। স্বামীর পাশাপাশি শ্বশুর-শাশুড়িও মেয়েকে শারীরিক নির্যাতন চালাত। এ নিয়ে তাদের সঙ্গে মেয়ের সুসম্পর্ক ছিল না। মাঝে মধ্যে নির্যাতন সইতে না পেরে বাপের বাড়ি চলে আসত।’
কিন্তু ঘটনার পর শ্বশুরসহ জামাতার পরিবারের লোকজন পরিকল্পিতভাবে তার মেয়েকে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
উখিয়া থানার পরিদর্শক তদন্ত মো. নাছির উদ্দিন জানান, ভোররাতে পালংখালী ইউনিয়নের মোছারখোলা এলাকায় এক গৃহবধূকে ছুরিকাঘাত করে খুনের খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এসময় ঘরের মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় ওই গৃহবধূকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
নিহত নারীর ঘাড়ের গভীর এবং থুতনীতে সামান্য ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিক ধারণা পুলিশের।
নাছির উদ্দিন আরও জানান, ঘটনার রহস্য উদঘাটনের পাশাপাশি জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে রয়েছে।
পতাকানিউজ/আরবি

