চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল ছলিমপুরে অভিযান চালিয়েছে যৌথবাহিনী। ৮ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা অভিযানে ১৫ জনকে আটক ও অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। তবে কি পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে তা জানা যায়নি।
সোমবার, ৯ মার্চ দুপুর ২টায় চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. আহসান হাবীব পলাশ এ তথ্য জানান। এসময় জঙ্গল সলিমপুরে আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী ‘পূর্ণ অধিকার ও আধিপত্য’ প্রতিষ্ঠা করেছে বলে দাবি করেন তিনি।
ডিআইজি বলেন, ‘এখানে সাধারণ মানুষ এখানে ঢুকতে পারত না। বিশেষ করে পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখানে ঢুকতে ভয় পেত অনেক সময়। এবার পঞ্চমবারের মত এ ব্যবস্থা। এর আগে আরও চারবার এখানে আসবার চেষ্টা করা হয়েছে। প্রতিবারই ব্যর্থ হয়েছি আমরা।’
আজকের এ অভিযান ‘সফল’ দাবি করেন ডিআইজি হাবীব পলাশ।
আজ ভোর থেকে অস্ত্রধারী ও সন্ত্রাসীদের ধরতে জঙ্গল সলিমপুরে পুলিশ ও র্যাবের পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও বিজিবি যৌথভাবে অভিযান শুরু করে।
এদিকে সন্ত্রাসীরা অভিযান বাধাগ্রস্ত করতে জঙ্গল সলিমপুরের একটি খালের ওপর কালভার্ট ভেঙে দেয় এবং ছিন্নমূলের পর আলী নগরের শুরুতে একটি বড় ট্রাক আড়াআড়ি করে রাখে।
জঙ্গিল সলিমপুরে এখন থেকে পুলিশ ও র্যাবের দুটি ক্যাম্প থাকবে বলে জানিয়েছেন ডিআইজি মো. আহসান হাবীব পলাশ। এছাড়া পরবর্তীতেও পুলিশ যেন তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারে এজন্য বিভাগীয় কমিশনারকে অনুরোধ করেন তিনি।
অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়ে ডিআইজি মো. আহসান হাবীব পলাশ বলেন, ‘অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। এখানে যেহেতু নেটওয়ার্কের সমস্যা এখন পর্যন্ত কী পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে আমরা এখনও জানতে পারিনি।’
প্রসঙ্গত, গত ২০ জানুয়ারি, সোমবার, সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে অস্ত্র উদ্ধারের অভিযান চালাতে গিয়ে দুর্বৃত্তদের হামলায় র্যাব কর্মকর্তা আব্দুল মোতালেব নিহত হন। এ ঘটনায় আরও তিনজন র্যাব সদস্য গুরুতর আহত হন।
হামলার একটি ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, সাদা রঙের একটি মাইক্রোবাসে কালো জ্যাকেট পরা র্যাব সদস্যরা অভিযানে গেলে মাইকে ঘোষণা দিয়ে কয়েকশ মানুষ জড়ো হয়। এরপর সংঘবদ্ধভাবে র্যাব সদস্যদের ওপর হামলা চালানো হয় এবং মাইক্রোবাস ভাঙচুর করা হয়।
এরপর ২০ জানুয়ারি, মঙ্গলবার দুপুরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রাসেল বলেন, জড়িতদের গ্রেপ্তারে শিগগির সেনাবাহিনীসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হবে।
একইদিন দুপুরে জঙ্গল সলিমপুর সন্ত্রাসীদের আড্ডাখানায় পরিণত হয়েছে। শীঘ্রই আইনানুগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এখানে যারা অবৈধভাবে বসবাস করছেন, অবৈধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী আছে তাদেরকে আমরা নিমূর্ল করব এবং অবৈধ কর্মকাণ্ডের এ আস্তানা ভেঙেচুরে গুড়িয়ে দেয়া হবে বলে জানান র্যাব মহাপরিচালক একেএম শহিদুর রহমান এ কথা বলেন।
পরে ২১ জানুয়ারি, বুধবার রাতে র্যাব-৭ এর ডিএডি পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা বাদী হয়ে সীতাকুণ্ড থানায় এ ঘটনায় হত্যা মামলা করেন। মামলার পর অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পতাকানিউজ/আরবি

