স্বাস্থ্যকর ও সুস্বাদু খাবারের আশায় মানুষ পছন্দের তালিকায় রাখে অভিজাত রেস্টুরেন্টগুলোকে। চাকচিক্যময় ডেকোরেশনে আভিজাত্যের ছাপে সাজিয়ে তোলা এসব রেস্টুরেন্ট যে কাউকে কাছে টানবে। কিন্তু চাকচিক্যের আড়ালে কী চলে—তা জানলে হয়ত চোখ কপালে উঠবে। অনেকটা টাকা দিয়ে বিষ কিনে খাওয়ার মতই অবস্থা।
এবার চট্টগ্রাম মহানগরীর নামকরা দুটি রেস্টুরেন্টে ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের অভিযানে ধরা পড়েছে খাবার সংরক্ষণ ও তৈরির ‘ভয়ঙ্কর’ সব চিত্র। তথ্য মিলেছে আঁতকে উঠার মতই। খাবারে অননুমোদিত কেমিক্যাল ব্যবহার, ক্ষতিকর সুগন্ধি ও ফ্রিজে সংরক্ষণ করা বাসি ভাতসহ মাংসের ছড়াছড়ি। অভিজাত দুই রেস্টুরেন্টের এমন চিত্র দেখে হতবাক খোদ ভোক্তা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারাও।
‘হান্ডি ও ‘ধাবা’ রেস্টুরেন্ট
নগরীর জিইসি মোড়ের অভিজাত ‘হান্ডি ও ‘ধাবা’ রেস্টুরেন্টে খাবারে ভেজাল ও অননুমোদিত কেমিক্যাল ও ক্ষতিকর সুগন্ধি আতর ব্যবহার, মটরে রঙ মেশানো, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার রান্না এবং ফ্রিজে বাসি ভাতসহ খাসির মাংস ও মুরগির মাংস সংরক্ষণ করা ছিল। এসব অপরাধে হান্ডিকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ও ধাবাকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করেছে ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

বৃহস্পতিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর সকালে ওই দুটি রেস্টুরেন্টে হানা দেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় উপপরিচালক মোহাম্মদ ফয়েজ উল্যাহ। এসময় উপস্থিত ছিলেন সহকারী পরিচালক মো. আনিছুর রহমান ও সহকারী পরিচালক মাহমুদা আক্তার ও মো. আফতাবুজ্জামান।
ভোক্তা কর্মকর্তারা জানান, শুধু এ দুটি রেস্টুরেন্ট নয়, অন্যান্য রেস্টুরেন্টগুলোর চিত্র প্রায় একই। যেখানেই যায় সেখানেই ভেজালের ছড়াছড়ি। নামিদামি রেস্টুরেন্টগুলোর ভেতরের চিত্র খুবই হতাশার। এখন থেকে অভিযানে ধরা পড়া প্রতিষ্ঠানগুলোকে মনিটরিংয়ের আওতায় রাখা হবে বলে জানান তারা।
ভোক্তা কর্মকর্তারা যা বললেন
এ বিষয়ে সহকারী পরিচালক মো. আনিছুর রহমান বলেন, খাবারে অননুমোদিত কেমিক্যাল, ক্ষতিকর সুগন্ধি ব্যবহার ও ফ্রিজে বাসি মাংস সংরক্ষণ করাসহ বিভিন্ন অপরাধে হান্ডি রেস্টুরেন্টকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ও ধাবা রেস্টুরেন্টকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া তাদের বিভিন্ন নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘নামিদামি রেস্টুরেন্টগুলোর বাইরের পরিবেশ ভালো থাকলেও রান্নাঘরের পরিবেশ খুবই বাজে। যেখানে ভোক্তাদের গিয়ে দেখার সুযোগ খুব কমই থাকে। আর এ সুযোগ কাজে লাগান প্রতিষ্ঠান মালিকরা। খাবারকে মুখরোচক করতে তারা অননুমোদিত ক্যামিকেল ও সুগন্ধি আতর ব্যবহার করছে। বেচে যাওয়া সব খাবার ফ্রিজে সংরক্ষণ করে আবার সেগুলো ভোক্তাদের খাওয়ানো হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, জরিমানার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠান দুটিকে ভবিষ্যতের জন্য সতর্ক ও ভবিষ্যতে তদারকির আওতায় রাখা হবে। ভোক্তাদেরও সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।
পতাকানিউজ/আরবি

