এক যুগেরও বেশি সময় ধরে আলোচনায় থাকা আগ্রাবাদ কর ভবন নির্মাণ প্রকল্প অবশেষে বাস্তবে রূপ পেতে যাচ্ছে। জাম্বুরি পার্কের পূর্ব পাশে ৭৭ কাঠা জমিতে ৪৩৭ কোটি টাকা ব্যয়ে তিনটি বেইজমেন্টসহ ২৩তলা বিশিষ্ট ভবন নির্মাণের দরপত্র শিগগিরই আহ্বান করা হবে। দরপত্র মূল্যায়ন ও কার্যাদেশের সব প্রক্রিয়া শেষ করে চলতি বছরের মধ্যেই নির্মাণ চুক্তি করার লক্ষ্য রয়েছে। আগামী ১ জানুয়ারি থেকে কাজ শুরু করা যাবে বলে আশা সংশ্লিষ্টদের।’
এক ছাতার নিচে রাজস্ব আহরণ
ভবনটি নির্মাণ সম্পন্ন হলে ১০ জন কর কমিশনারের অধীনে প্রায় এক হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী এক ছাতার নিচে রাজস্ব আহরণ কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। প্রায় ৫ লাখ বর্গফুট আয়তনের এ ভবনটি হবে সরকারি পর্যায়ে দ্বিতীয় বৃহত্তম স্থাপনা—প্রথম স্থানে রয়েছে জাতীয় সংসদ ভবন।
খরচ বাঁচবে ২ কোটি টাকা
বর্তমানে চট্টগ্রাম কর অঞ্চলগুলো সিডিএ আবাসিক এলাকার বিভিন্ন ভাড়া করা ভবনে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে অবস্থান করছে। এতে শুধু ভাড়া বাবদ বছরে ২ কোটির বেশি টাকা খরচ হচ্ছে। পাশাপাশি করদাতা, ব্যবসায়ী, শিল্পোদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারীসহ সেবা গ্রহণকারীদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে এক ভবন থেকে আরেক ভবনে দৌড়ঝাঁপ, বর্ষায় হাঁটুপানি বা কোমরপানি মাড়িয়ে যেতে হয় অফিসে। এমন বাস্তবতা দূর করতে দীর্ঘদিনের পরিকল্পিত বহুতল কর ভবন প্রকল্পটি অবশেষে আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে।
কী থাকবে ভবনে?
নতুন কর ভবনে থাকবে চট্টগ্রামের চারটি করাঞ্চলের রেঞ্জ ও সার্কেল অফিস, কর আপিল অঞ্চল, আপিল ট্রাইব্যুনাল, কর জরিপ অঞ্চলের একটি রেঞ্জ ও দুটি সার্কেল অফিস। পাশাপাশি থাকবে কর আইনজীবীদের অফিস, ব্যাংকের শাখা, ডাকঘর, ডে কেয়ার সেন্টার, মিডিয়া সেন্টার, মাল্টিপারপাস হল, নারী-পুরুষের আলাদা এবাদতখানা, অফিসার ও স্টাফ ক্যান্টিনসহ আধুনিক সুযোগ-সুবিধা।
নির্ধারিত স্থান পরিদর্শন
সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য (কর প্রশাসন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) জিএম আবুল কালাম কায়কোবাদ এবং সদস্য (কর নীতি) ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী কর ভবনের নির্ধারিত স্থান পরিদর্শন করেছেন। এসময় তারা দ্রুত দরপত্র আহ্বান ও নির্মাণকাজ শুরুর নির্দেশনা দেন।
পরিদর্শনে আরও উপস্থিত ছিলেন কর অঞ্চল-১ এর কমিশনার মো. আবুল কালাম আজাদ, অঞ্চল-২ এর সাধন কুমার রায়, অঞ্চল-৪ এর আয়েশা সিদ্দিকা শেলী, অঞ্চল-৫ এর শাহীন আক্তার হোসেন, অঞ্চল-৬ এর সাইফুল আলম এবং কর আপিল অঞ্চলের কমিশনার শামিনা ইসলাম।
যা জানালেন প্রকল্প পরিচালক
প্রকল্প পরিচালক ও কর কমিশনার (অঞ্চল-৩) মো. মঞ্জুর আলম বলেন, ‘একনেক অনুমোদনের পর তিনটি বেইজমেন্টসহ ২৩ তলা ভবনের নকশা প্রস্তুত হয়েছে। শিগগিরই দরপত্র আহ্বান করা হবে। গণপূর্ত অধিদপ্তর (বিভাগ-৪) নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করবে। দরপত্র মূল্যায়ন ও কার্যাদেশের সব প্রক্রিয়া শেষ করে চলতি বছরের মধ্যেই নির্মাণ চুক্তি করার লক্ষ্য রয়েছে। আশা করছি, আগামী ১ জানুয়ারি থেকেই কাজ শুরু করা যাবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এটা কর পরিবারের বহু প্রতীক্ষিত স্বপ্নের ভবন। এক ছাতার নিচে কর সেবার সব কার্যক্রম আনতে পারলেই করদাতা ও কর্মকর্তা দু’পক্ষই উপকৃত হবেন। আমাদের প্রধান লক্ষ্য হবে কাজের গুণগত মান বজায় রেখে প্রকল্পটি সময়মতো সম্পন্ন করা।’
পতাকানিউজ/এফএম/আরবি

