সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব দোলপূর্ণিমা আজ, ৩ মার্চ। এ উৎসব দোলযাত্রা ও হোলি উৎসব নামেও পরিচিত। হোলি মানেই রঙের খেলা। ছোট ও বড় সকলের কাছে এ উৎসব রঙিন ও আনন্দময়। দোলযাত্রা হল রঙের খেলা, একে-অপরকে আবির আর নানা রঙে রাঙিয়ে দেওয়া। শীতের কনকনে ঠাণ্ডাকে বিদায় ঘোঘণা করে বসন্তকে আহ্বান। এই বসন্তের আগমন হয় দোলযাত্রার মাধ্যমে। শুধু বাংলাতেই নয়, ভারত জুড়েও চলে রঙের উৎসব ‘হোলি’। চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে জাঁকজমক ও আনন্দমুখর পরিবেশ উদযাপিত হয় দোল পূর্ণিমা। এদিনে হিংসা, বিদ্বেষ ও ভেদাভেদ ভুলে একে অন্যকে আবির দিয়ে রাঙিয়ে দেন।
মঙ্গলবার, ৩ মার্চ দোল পূর্ণিমার দিনে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন পাড়ায় আবির ও রঙ মাখানোর উৎসবে মেতে উঠে। শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে বড়রা একে অপরের গালে আবির ও গায়ে ছিটিয়ে দেন নানা রংয়ের রঙ। সকাল থেকেই সবাই আবির ও রঙ নিয়ে ছুটেছেন এপাড়া থেকে ওপাড়া। একে অন্যেকে রঙ দিয়ে সাজিয়েছে নিজের মত করে। এ থেকে বাদ যায়নি স্বজন ও প্রতিবেশিরাও। বাড়ি বাড়ি গিয়ে পাল্টাপাল্টি রঙের বিনিময় করেছেন।
চট্টগ্রাম নগরীর চকবাজার, আন্দরকিল্লা রাজাপুর লেইন, টেরীবাজার হাজারী লেইন, পাথরঘাটা, নিউমার্কেট মিউনিসিপ্যাল মডেল হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠ ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র। এছাড়া দোল উৎসব নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকও ছিল বেশ সরব। কেউ দিয়েছেন হ্যাপি হোলির শুভেচ্ছা ও আবার কেউ কেউ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আবিরের রঙে রাঙানো আনন্দের মুহূর্ত তুলে ধরেছেন।

এদিকে আজ সকাল থেকেই বিভিন্ন এলাকার মঠ-মন্দিরগুলোতে পূজা, যজ্ঞ, প্রসাদ বিতরণসহ বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সকালে পূজা শেষে ভক্তদের দেয়া হয় অঞ্জলি। বিতরণ করা হয় প্রসাদ। পরে রাধা-কৃষ্ণের বিগ্রহে আবির ও গুলালে স্নান করিয়ে ভক্তরা একে অপরকে আবির মেখে দেন। রঙের ডালা আর পিচকারি হাতে তরুণ-তরুণীরা সামিল হয় দোল উৎসবে।
হোলি খেলায় অংশগ্রহণকারীরা জানান, ‘আজকের দিনটি আনন্দ ও খুশির। আজকের উৎসবের দিনটি সর্বজনীন। তাই ভেদাভেদ ভুলে ভাই-বোনসহ বন্ধু-বান্ধবরা সবাই মিলে হোলি খেলায় মেতে উঠে। এদিনে সবাই যাতে সুখ ও শান্তিতে বসবাস করতে পারে এ প্রার্থনা করা হয়।’
এদিকে আগামীকাল, বুধবার আবারও রঙের খেলায় মাতবে সনাতনীরা। কারণ একদিন আবিরের রঙে ও পরের দিন নানা রঙে রাঙানো হয়।
শাস্ত্রমতে, ফাল্গুন মাসের পূর্ণিমা তিথিতে বৃন্দাবনে শ্রীকৃষ্ণ আবির নিয়ে রাধা ও তাঁর সখীদের সঙ্গে রং খেলায় মেতে উঠেছিলেন। এই আবির খেলার তিথিটিকে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা দোল বা হোলি উৎসব হিসেবে পালন করেন। দোলযাত্রার দিন রাধা-কৃষ্ণের বিগ্রহ আবিরে রাঙিয়ে দোলায় চড়িয়ে নগর কীর্তনে বের হন। এসময় তারা রং খেলার আনন্দে মেতে ওঠেন। দোল উৎসবের অনুষঙ্গে ফাল্গুনী পূর্ণিমাকে দোলপূর্ণিমা বলা হয়। আবার এই পূর্ণিমা তিথিতেই চৈতন্য মহাপ্রভুর জন্ম বলে একে গৌরপূর্ণিমা নামেও অভিহিত করা হয়।
দোল কথাটা এসেছে দোলনা থেকে। জানা যায়, আর্যরা এটি পেয়েছিল অনার্য উৎস থেকে। ফাল্গুনের শুক্লা চর্তুদশীতে ও পূর্ণিমা তিথিতে অনুষ্ঠিত হয় ‘হোলি’। ‘হোলাক’ বা ‘হোলক’ নাম থেকে এসেছে এ উৎসবের নাম।
পতাকানিউজ/আরবি

