বন্দর নগরী চট্টগ্রামে নারীদের নিরাপদ, স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ ও সাশ্রয়ী যাতায়াত নিশ্চিত করতে চালু হয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) বিশেষ ‘মহিলা বাস সার্ভিস’। মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট থেকে নগরীর কালুরঘাট–পতেঙ্গা রুটে দুটি বাস চলাচল শুরু করেছে।
মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট সকালে নগরীর কালুরঘাট এলাকায় এ সেবা উদ্বোধন করা হয়। এ সেবার আওতায় বিআরটিসির একটি দ্বিতল ও একটি একতলা বাস চলবে। কালুরঘাট থেকে পতেঙ্গা রুটে চলাচলকারী দ্বিতল বাসটি ৭৫ আসনের, আর একতলা বাসের আসন ৪৫টি।
বিআরটিসি জানিয়েছে, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে নারীদের জন্য এই বিশেষ গণপরিবহন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। একইসঙ্গে পরিবহন খাতে নারীদের কর্মসংস্থান ও অংশগ্রহণ বাড়ানোও এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

যেসব এলাকা দিয়ে চলবে
কালুরঘাট থেকে যাত্রা শুরু করে বাস দুটি কাপ্তাই রাস্তার মাথা, বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, ২ নম্বর গেট, জিইসি মোড়, লালখান বাজার, টাইগারপাস, দেওয়ানহাট, চৌমুহনী, আগ্রাবাদ, বারেক বিল্ডিং, ফ্রিপোর্ট ও কাটগড় হয়ে পতেঙ্গা পর্যন্ত চলাচল করবে। ফলে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ আবাসিক, বাণিজ্যিক ও শিল্পাঞ্চলের সঙ্গে নারীদের যাতায়াতের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
ভাড়া কত?
বিআরটিসির প্রকাশিত ভাড়ার তালিকা অনুযায়ী, কালুরঘাট থেকে কাপ্তাই রাস্তার মাথা পর্যন্ত ভাড়া ১০ টাকা। যাত্রার দূরত্ব অনুযায়ী পরবর্তী স্টপেজগুলোতে ভাড়া বাড়বে। আর কালুরঘাট থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত পুরো ২৭ কিলোমিটার যাত্রার ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে সর্বোচ্চ ৬৮ টাকা।
চালক-কন্ডাক্টরও নারী
এ বাস সার্ভিসের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো বাসের চালক ও কন্ডাক্টর হিসেবে নারী কর্মীরাই দায়িত্ব পালন করবেন। এর ফলে নারীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরির পাশাপাশি পরিবহন খাতে নারীদের সরাসরি কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়বে বলে আশা করছে বিআরটিসি।
প্রাথমিকভাবে ১৪টি বাস
চট্টগ্রামের পাশাপাশি ঢাকায় ১০টি এবং বগুড়ায় দুটি বাস নিয়ে প্রাথমিকভাবে দেশের তিন শহরে মোট ১৪টি বাস দিয়ে বিশেষ এ সার্ভিস চালু করা হয়েছে। যাত্রীদের চাহিদা ও প্রয়োজন বিবেচনায় ভবিষ্যতে বাসের সংখ্যা ও সেবার পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে।
চট্টগ্রামে নারীদের জন্য পৃথক বাস সার্ভিস চালুর উদ্যোগ নতুন নয়। বিআরটিসির আগের উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় এবার নতুন করে কালুরঘাট–পতেঙ্গা রুটকে এ সেবার আওতায় আনা হলো। নগরীর দীর্ঘ রুটে নিয়মিত ও নির্ভরযোগ্য সেবা নিশ্চিত করা গেলে কর্মজীবী নারী, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণির নারী যাত্রীদের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ একটি গণপরিবহন বিকল্প হয়ে উঠতে পারে।
পতাকানিউজ/আরবি

