শনিবার, ২৯ নভেম্বর সকাল আটটা। চট্টগ্রাম মহানগরীর চট্টেশ্বরী মোড় এবং বন্দর থানা এলাকা। দুটি স্থানে অভিন্ন ধরনের ব্যানার হাতে নিয়ে ঝটিকা মিছিল করেছে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী-যুবলীগের কয়েকজন যুবক। এদের কয়েকজনের মুখে মাস্ক পড়া বা মুখ চাদর দিয়ে ঢাকা ছিল। মিছিলে অংশ নেয়া যুবকেরা পতিত আওয়ামী লীগের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুন্যালের দেয়া রায় মানে না মর্মে স্লোগান দেয়। মাত্র কয়েক মিনিট মিছিল করার সময় তারা ভিডিও ধারণ করে এবং ছবি তোলে। মিছিল শেষে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে সটকে পড়ে।
কিন্তু এই দুটি মিছিলের কথা থানা পুলিশ স্বীকার করছে না। চকবাজার থানা পুলিশের দাবি, মিছিল হয়েছে কোতোয়ালী, কোতোয়ালী বলছে চকবাজার। একইভাবে বন্দর থানা বলছে, এরকম কোনো মিছল হয়নি। শনিবার সকালে হওয়া দুই মিছিলের ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলেও থানা পুলিশ এখনো পর্যন্ত কিছু জানে না।

ভাইরাল হওয়া ১ মিনিট ৭ সেকেন্ড ও ১ মিনিট ১৪ সেকেন্ডের দুই ভিডিওতে দেখা যায় ১০–১৫ জনের দুটি দল স্লোগান দিচ্ছে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে নিয়ে। এসময় কারো মুখে মাস্ক আর কারো মুখ চাদরে ঢাকা ছিলো। একই সময়ে তারা একাধিক ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়। একটি ব্যানারে লেখা চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগ, অন্যটিতে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী যুবলীগ।
দুটি ব্যানারেই লেখা ছিল ‘প্রহসনের রায় জনগণ মানে না, মানবে না।’
সূত্র বলছে, উভয় মিছিলই চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগ নেতা গোলাম সামদানি জনির অনুসারীরা করে। মিছিল শেষে অংশগ্রহণকারীরা দ্রুত সটকে যায়, আর রাস্তার অপর পাশে যানবাহন স্বাভাবিকভাবেই চলতে থাকে। ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর চট্টেশ্বরী মোড়ে পুলিশি তৎপরতা বেড়ে যায়। চকবাজার ও কোতোয়ালী থানার ওসিসহ জোনের কর্মকর্তাদের যেতে দেখা যায়। কিন্তু ঘটনার দায় নিতে কেউই রাজি নন।
চকবাজার থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, ওই এলাকা কোতোয়ালী থানার অধীনে। কোতোয়ালী থানার ওসি আবদুল করিম পাল্টা মন্তব্য করেন, এটা চকবাজার থানার এলাকার ঘটনা। অন্যদিকে বন্দর থানার ওসি কাজী মুহাম্মদ সুলতান আহসান সরাসরি দাবি করেছেন এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। তারা মাঠে নামার সাহস পাবে না। এ–আই দিয়ে বানিয়ে ভিডিও ছড়ানো হয়েছে।
পতাকানিউজ/এএস/কেএস

