চট্টগ্রামে এখন ভোরের শহর যেন এক অন্য রূপে সেজেছে। বাতাসে শীতের মৃদু ছোঁয়া, রাস্তাঘাটে হালকা কুয়াশার চাদর আর দোকানপাটে ফুটে উঠছে ভাপা পিঠা ও চিতই পিঠার দারুণ সুবাস। নভেম্বরের শুরুতেই চট্টগ্রামের নগরজুড়ে এমন মনোমুগ্ধকর দৃশ্য যেন শীতের আগমনী বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছে। বিশেষ করে সকালবেলা অফিস বা স্কুলে যাওয়া মানুষেরা এখন থেমে যাচ্ছেন রাস্তার পাশে ধোঁয়া ওঠা পিঠার দোকানের সামনে।
চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় যেমন- আগ্রাবাদ, ওআর নিজাম রোড, লালখান বাজার, চকবাজার, কাজীর দেউরি, দুইনম্বর গেট ও বন্দর এলাকার পাশে ছোট ছোট অস্থায়ী দোকান বসতে শুরু করেছে। সেখানে চলছে শীতের ঐতিহ্যবাহী পিঠা উৎসব। কেউ ভাপা পিঠার ভেতরে নারকেল ও গুড়ের পুর ভরে দিচ্ছেন, কেউ বানাচ্ছেন গোল চিতই পিঠা। সকালবেলার কুয়াশার মাঝে দোকান থেকে ভেসে আসা গরম পিঠার গন্ধ যেন পথচারীদের টেনে নিচ্ছে। শুধু সকালবেলায়ই নয় বিকেলবেলাতেও আরো জমজমাট হয়ে উঠে এই দোকানগুলো। এ বছরের তীব্র গরমের পর শীতের এই আগমনী বার্তা চট্টগ্রামবাসীকে যেন স্বস্তির নিঃশ্বাস দিচ্ছে।
পিঠা বিক্রেতারা বলছেন, এখনো পুরোপুরি শীত নামেনি, তবে হালকা ঠান্ডা পড়তেই ক্রেতা বাড়ছে। সকালে আর বিকেলে বেশ ভিড় হচ্ছে দোকানে।
অনেক পরিবারও এখন শীতের আমেজে নিজেরা পিঠা বানাতে শুরু করেছে, কিন্তু রাস্তার পাশে বসা এই ঐতিহ্যবাহী দোকানগুলোর আকর্ষণ যেন অন্যরকম। শীতের মৃদু বাতাসে গরম ভাপা পিঠা হাতে নিয়ে চা খাওয়া এখন চট্টগ্রামের শীতসকালের এক বিশেষ অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন, এই কুয়াশাচ্ছন্ন সকালে এক কাপ চা আর গরম পিঠা না খেলে যেন দিনটা শুরুই হয় না। বিশ্ববিদ্যালয় ও অফিসগামী তরুণরা যেমন পিঠার দোকানে আড্ডা দিচ্ছেন, তেমনি বয়স্করাও এই মুহূর্ত উপভোগ করতে করতে নস্টালজিয়ায় ভরা স্মৃতি মনে করছেন- ‘আগে শীতে বাড়িতে মা পিঠা বানাতেন, এখন সেই স্বাদ পাই এই দোকানেই।’
চট্টগ্রামে শীত মানেই শুধু ঠান্ডা নয়, এটা এক উৎসবের সময়। পিঠার গন্ধ, কুয়াশায় ঢাকা রাস্তা আর মানুষের মুখে আনন্দের হাসিতে যেন পুরো শহর জেগে উঠছে এক নতুন ঋতুর স্পর্শে। শীতের এই মিষ্টি আবহাওয়ায় চট্টগ্রামের পিঠার দোকানগুলো শুধু খাবারের জায়গা নয়, হয়ে উঠেছে মিলনমেলা ও সংস্কৃতির প্রতিচ্ছবি।
পতাকানিউজ/এনএফএম

