গত সপ্তাহে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্পে বেশ কিছু ভবন হেলে পড়ার পর ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত করতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। ভূমিকম্পে সম্ভাব্য ঝুঁকি ও ক্ষয়ক্ষতি কমাতে একটি বিশেষ কমিটিও গঠন করা হয়েছে। সোমবার, ১ ডিসেম্বর চসিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ কমিটি ঘোষণা করা হয়।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব আশরাফুল আমিন বলেন, ভূমিকম্প ঠেকানো সম্ভব না হলেও আগাম প্রস্তুতি থাকলে ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনা যায়। ঝুঁকিপূর্ণ ভবন অপসারণ এবং নতুন ঝুঁকি শনাক্তে চসিক গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করছে। জনগণের জীবন-নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার।
সভায় জানানো হয়, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) ইতোমধ্যে নগরের ১০৩টি ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত করেছে। এসব ভবন দ্রুত অপসারণ এবং আরও ঝুঁকিপূর্ণ ভবন শনাক্তের লক্ষ্যে পাঁচ সদস্যের নতুন কমিটি গঠন করেছে চসিক। চসিকের আইন কর্মকর্তাকে আহ্বায়ক করে গঠিত এই কমিটিতে স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেটকে সদস্য সচিব করা হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা, নির্বাহী প্রকৌশলী এবং একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সদস্য হিসেবে থাকবেন। কমিটি চিহ্নিত ভবনগুলোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেবে।

সভায় তুলে ধরা হয়, শুধু ভবন অপসারণ নয়— জনসচেতনতা বৃদ্ধি করাও ঝুঁকি মোকাবিলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এ লক্ষ্যে চসিক গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, ওয়ার্ডভিত্তিক মাইকিং, লিফলেট ও প্রচারপত্র বিতরণ, কমিউনিটি-ভিত্তিক সচেতনতামূলক সভা এবং স্বেচ্ছাসেবক দল তৈরিসহ বেশ কয়েকটি উদ্যোগ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়।
সভায় চসিকের প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, আইন কর্মকর্তা মহিউদ্দিন মুরাদ, স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সোয়েব উদ্দিন খান, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ফরহাদুল আলমসহ সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পতাকানিউজ/কেএস

