বন্দর নগরী চট্টগ্রামের সড়কে উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে সড়ক দুর্ঘটনা। ২০১৭ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত গত ৮ বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় ৬৬২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে অর্ধেকের বেশি ছিল পথচারী। এছাড়া সবচেয়ে ঝুঁকিতে ছিলেন দুই ও তিন চাকার যানবাহনের যাত্রী ও চালকরা। এদের মৃত্যুর সংখ্যা ১৯৫ জন।
বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) যৌথভাবে প্রকাশিত চট্টগ্রাম সিটি রোড সেফটি রিপোর্ট ২০২৫-এ এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়। এটি প্রকাশিত তৃতীয় সড়ক নিরাপত্তা প্রতিবেদন।
নগরীর দামপাড়া পুলিশ লাইনের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম ও অপারেশন) মো. হুমায়ুন কবির। বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) ওয়াহিদুল হক চৌধুরী এবং চসিকের প্রধান প্রকৌশলী মো. আনিসুর রহমান সোহেল।
প্রতিবেদনের বলা হয়, গত ৮ বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর হার বেড়েছে ২৯ শতাংশ। এর মধ্যে ২০১৯ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে প্রাণহানির হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। ২০২১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত এ হার প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। যা নগরীর সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাকে স্পষ্ট করে তোলে।
প্রতিবেদনে তথ্য মতে, ২০১৭-২০২৪ সময়ে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে ছিলেন পথচারীরা। এ সময়ে পথচারী নিহত হয়েছেন ৩৬৩ জন, যা মোট নিহতের অর্ধেকেরও বেশি। পরবর্তী সময়ে পথচারী মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে ৪৩ শতাংশ। পথচারীদের পর সবচেয়ে ঝুঁকিতে ছিলেন দুই ও তিন চাকার যানবাহনের যাত্রী ও চালকরা; তারা নিহত হয়েছেন ১৯৫ জন।
প্রতিবেদনে নগরীর ২০টি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। এগুলো হলো-বড়পোল মোড়, অলংকার মোড়, সিইপিজেড গেট, সিটি গেট, নিউমার্কেট বাসস্টপ, কালামিয়া বাজার বাসস্টপ এবং সাগরিকা গোলচত্বর। এসব স্থানগুলোতে দ্রুত বিজ্ঞানভিত্তিক যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে ত্রুটি চিহ্নিত করে পুনর্নির্মাণের সুপারিশ করা হয়েছে।

এছাড়া পথচারী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফুটপাত প্রশস্তকরণ, উঁচু জেব্রা ক্রসিং নির্মাণ, নিরবচ্ছিন্ন ফুটপাত নিশ্চিতকরণ, স্পিড হাম্প স্থাপন এবং পথচারী দ্বীপ নির্মাণের পাশাপাশি দুর্ঘটনা কমাতে মোটরযান গতিসীমা নির্দেশিকা ২০২৪ বাস্তবায়নের ওপর জোর দেয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম ও অপারেশন) মো. হুমায়ূন কবির বলেন, ‘সড়ক নিরাপত্তা কেবল আইন প্রয়োগের বিষয় নয়; এটি নগর পরিকল্পনা ও সড়ক নকশার সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সিএমপি রোড সেফটি সেল গঠন এবং রোড ক্র্যাশের তথ্য সংগ্রহে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) প্রণয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে, যা সড়ক নিরাপত্তায় গতি আনছে।’
অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) ওয়াহিদুল হক চৌধুরী বলেন, সিএমপি ইতোমধ্যে রোড সেফটি সেল গঠন করেছে এবং রোড ক্র্যাশের তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের জন্য একটি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রোসিডিউর (এসওপি) প্রণয়ন করেছে, যাতে এই কার্যক্রম একটি প্রাতিষ্ঠানিক ও পদ্ধতিগত রূপ পায়। ভবিষ্যতে এই সেলই প্রতিবেদন প্রস্তুতের দায়িত্ব পালন করবে।
চসিকের প্রধান প্রকৌশলী মো. আনিসুর রহমান সোহেল জানান, প্রতিবেদনের সুপারিশকে ভিত্তি করে সিএমপির সঙ্গে যৌথভাবে চট্টগ্রাম শহরের সড়ক নিরাপত্তা উন্নয়নে একটি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রণয়নের পরিকল্পনা করছে চসিক। বিশ্বব্যাপী ২৭টি শহর ও দুটি রাজ্যে চলমান বিআইজিআরএস কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী শহরের মধ্যে একটি চট্টগ্রাম।
ব্লুমবার্গ ফিলানথ্রপিসের ইনিশিয়েটিভ ফর গ্লোবাল রোড সেফটি (বিআইজিআরএস) কর্মসূচির আওতায় চট্টগ্রাম সিটি রোড সেফটি রিপোর্ট ২০২৫ প্রস্তুত ও প্রকাশে সহায়তা করেছে বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য সংস্থা ভাইটাল স্ট্যাটেজিস।
পতাকানিউজ/আরবি

